অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ রাজু মজুমদার এবার নতুন পরিচয়ে দর্শকের সামনে আসছেন পরিচালক হিসেবে। অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি প্রথমবার ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়েছেন নিজের স্বপ্নের প্রজেক্ট নিয়ে। ছবির নাম ‘ফণীবাবু ভাইরাল’। শুধু পরিচালনাই নয়, এই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্যও তিনি নিজেই লিখেছেন। সম্প্রতি ছবির শুটিং শেষ হয়েছে এবং নির্মাতারা এখন মুক্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজুর মতে, এই ছবি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বর্তমান সময়ের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরবে হাসি আর আবেগের মিশেলে।
গল্পের পটভূমি একটি আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া গ্রাম, যেখানে মোবাইল ফোন আর প্রযুক্তির প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। এই গ্রামেরই এক বৃদ্ধ মানুষ ফণীবাবু, যার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে পরিবার আর সংসারের দায়িত্ব সামলাতে। সুন্দরী স্ত্রী, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার শান্ত জীবন থাকলেও বয়সের ভারে তিনি ধীরে ধীরে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছেন। অথচ এক সময় এই মানুষটিই ছিলেন সকলের ভরসা। এই বদলে যাওয়া সম্পর্ক আর অনুভূতির মধ্যেই গল্প নতুন মোড় নেয়।
একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার সূত্র ধরে হঠাৎ করেই ফণীবাবু হয়ে ওঠেন সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল সেনসেশন। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে তিনি রাতারাতি হয়ে যান ভার্চুয়াল স্টার। কীভাবে তিনি ভাইরাল হলেন এবং এই খ্যাতি তার জীবনে কী প্রভাব ফেলল, সেটাই ছবির মূল আকর্ষণ। হাস্যরসের আড়ালে ছবিটি তুলে ধরবে জনপ্রিয়তার মোহ, মানুষের বদলে যাওয়া আচরণ এবং খ্যাতির আলোছায়ার বাস্তব চিত্র।
ফণীবাবুর চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে রোশনি ভট্টাচার্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, কাঞ্চন মল্লিক, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং দীপাণ্বিতা নাথকে। ছবির গান তৈরি করেছেন সমিধ মুখোপাধ্যায় ও দেবদীপ মুখোপাধ্যায়, আর ক্যামেরার দায়িত্বে রয়েছেন সুদীপ্ত মজুমদার। অভিজ্ঞ শিল্পীদের উপস্থিতি ছবিটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “বিপদে পাশে থাকা মানুষই সব নয়…ভালো সময়ে উন্নতি সহ্য করার ক্ষমতা খুব কমেরই থাকে!” খারাপ দৃষ্টিই সবচেয়ে ক্ষ’তিকর! বন্ধুত্ব নিয়ে সায়কের বি’স্ফোরক উপলব্ধি! কী জানালেন ভ্লগার-অভিনেতা?
পরিচালক রাজু মজুমদার জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় অবসরেই এই গল্পের ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। আজকের দিনে প্রায় সবাই মোবাইল হাতে ভাইরাল হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সবাই চায় এক মুহূর্তে স্টার হয়ে উঠতে। সেই আকাঙ্ক্ষা আর হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া মানুষের চারপাশের বদলে যাওয়া সম্পর্ক ও বাস্তবতাকেই তিনি পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন। হাসি, আবেগ আর সমাজের বাস্তব চিত্র মিলিয়ে ‘ফণীবাবু ভাইরাল’ দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেবে বলেই নির্মাতাদের বিশ্বাস।






