টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ‘ডলি বসু’কে (Dolly Basu) ঘিরে চর্চা নতুন কিছু নয়। কখনও তাঁর কাজ নিয়ে, কখনও বা তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানান ধারণা নিয়ে। ২০২৪ সালে সমাজ মাধ্যমে এমনই একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় আলোচনা, যেখানে দাবি করা হয় তিনি নাকি একাকিত্বে ভুগছেন, কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন! এক সময় সেই জল্পনায় নিজেই ইতি টানেন ডলি। সংক্ষিপ্ত অথচ স্পষ্ট একটি পোস্টে জানান, তিনি থিয়েটারের কাজে ব্যস্ত, শিশুদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন এবং জীবন নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। এই এক পোস্টেই বোঝা গিয়েছিল, আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও নিজের মতো করেই বাঁচতে পছন্দ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ডলির জীবন বরাবরই দুই দিক থেকে দেখা হয়েছে। একদিকে নাট্যকর্মী ও অভিনেত্রী হিসেবে, অন্যদিকে এক প্রাক্তন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে। কিন্তু এই দ্বিতীয় পরিচয়টি তিনি কোনওদিনই আগ্রহ নিয়ে সামনে আনেননি। বরং যতবারই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ততবারই এক অদ্ভুত নীরবতায় নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিচ্ছেদ বা ব্যক্তিগত টানাপড়েন নিয়ে কথা বলতে তিনি কখনও স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। সেই নীরবতাই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর নিজের মতো করে বাঁচার একমাত্র ভাষা।
তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে ফের সেই পুরনো অধ্যায়েই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশ্ন ছিল, এত আভিজাত্য এবং স্বনামধন্য এক পরিবারের অংশ হয়ে থাকার পর হঠাৎ সেখান থেকে বেরিয়ে আসা মানসিকভাবে কতটা কঠিন ছিল? ডলি বসু সোজাসাপ্টা জবাব দেন, “মানসিকভাবে দূরত্ব আমাদের অনেক দিন আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। ছেলেমেয়েদের নিয়ে একাই থাকতে শুরু করেছিলাম, তারপরে বিচ্ছেদটা তো শুধুমাত্র একটা কাগজের লেখা!” এই কথাতেই স্পষ্ট যে সম্পর্কের শেষটা তাঁর কাছে হঠাৎ আসা কোনও ধাক্কা নয়, বরং অনেক আগেই ভিতরে ভিতরে তৈরি হয়ে যাওয়া এক বাস্তবতা।
সাক্ষাৎকারে আবারও উঠে আসে জ্যোতি বসু প্রসঙ্গ। আগে বহুবার এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি, এবার কি কিছু বলতে চান? ডলির উত্তর ছিল আগের মতোই দৃঢ়, “এবারেও নীরবতাই পালন করব। কিছুই বলার নেই আর থাকলেও বলব না।” এরপর সন্তানদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচ্ছেদের পর একা হাতে সন্তানদের বড় করা কতটা কঠিন ছিল, সন্তানদের প্রতিক্রিয়াই বা কী ছিল? এই প্রশ্নে ডলি বলেন, “কোনও সন্তানই চায় না বা মেনে নিতে পারে না পারিবারিক বিচ্ছেদ! তার থেকেও বেশি যখন দেখে বাবা বা মা তাদের ছেড়ে আরও একটা নতুন পরিবার গঠন করেছে।”
আরও পড়ুনঃ ‘আমি গায়িকা, নায়িকা নই যে নাটক করব!’ ‘এত কিছু প্রকাশ্যে না এলেই ভালো হতো এখন মনে হচ্ছে!’ জীবনের ঝড় পেরিয়েই বড়পর্দায় গান গাওয়ার সুযোগ নিয়ে মুখ খুললেন দেবলীনা নন্দী!
তাঁর কথায় কোনও অভিযোগ নেই, আছে একজন মায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার স্বীকারোক্তি। সবশেষে আসে সেই পরিচয়ের প্রশ্ন, যা তাঁকে আজও তাড়া করে ফেরে। এত বছর কাজ করার পরেও কেন তাঁকে বারবার ‘জ্যোতি বসুর পুত্রবধূ’ হিসেবেই মনে করা হয়? এই বিষয়টি ডলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার একদম পছন্দ নয় এই নামটা! আমি একজন অবাঙালি হয়েও, বাংলা শিখে এতদিন ধরে কাজ করছি। মনে রাখার মতো কিছু অভিনয় তো করেছি! তাহলে অভিনেত্রী হিসেবেই আমাকে ডাকলে বেশি খুশি হবো।” তাঁর কথার মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল, দীর্ঘ পথচলার সারাংশ। পরিচয়ের ভার নয়, কাজের মাধ্যমেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান ডলি বসু!






