বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় এক ভয়াবহ খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিজের বাড়ির ঘরের ভিতর থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী অনিতা ঘোষের রক্তাক্ত দেহ। পঁয়ষট্টি বছরের এই মহিলার শরীরে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, যা দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, গোটা দেহ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অনিতা ঘোষ তাঁর বাহাত্তর বছরের স্বামী অরূপ ঘোষের সঙ্গে ওই আবাসনে থাকতেন। অরূপ ঘোষ একসময় দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং কাউকে চিনতে পারেন না। তাঁর দেখভালের জন্য বাড়িতে দু’জন আয়া এবং একজন রান্নার লোক রাখা হয়েছিল। একজন আয়া দিনে থাকতেন, অন্যজন রাতে দায়িত্ব সামলাতেন। পরিবারের সদস্যরা মহেশতলায় থাকেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন।
প্রতিবেশীদের কথায়, ঘটনার ঠিক আগে অনিতা ঘোষকে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা ধাক্কা দিলেও ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। কিছুক্ষণ পরে সঞ্জু নামে এক আয়া দরজা খুলে জানায়, কেউ একজন হামলা চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। তাঁর কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়।
আরও সন্দেহ বাড়ে যখন দেখা যায় সঞ্জুর সঙ্গে একটি ব্যাগ রয়েছে, যার মধ্যে সোনা ও নগদ টাকা ছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তিনজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে সঞ্জুর হাতে রক্তের দাগ পাওয়া যায় এবং জেরায় তিনি নাকি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ “‘দেশু ৭’ মুক্তির দশ মাস আগেই…” “এটা একটা উদযাপন, ভারতবর্ষের কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে আজ অব্দি হয়নি!” সোমবারের লাইভে দেব-শুভশ্রীর ইঙ্গিতেই তুঙ্গে ‘দেশু ৭’ নিয়ে উত্তেজনা! কী ছিল সেই ঘোষণা, যা আগে কখনও হয়নি?
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে শুধুই ডাকাতির উদ্দেশ্য ছিল নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ লুকিয়ে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তথ্য সংগ্রহ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তদন্ত এগোচ্ছে। শান্ত পাড়ায় এমন নৃশংস ঘটনার পরে এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।






