হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও হৃতিকা গিরির সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন টলিপাড়ায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘুরছিল। সমাজমাধ্যমে নানা ইঙ্গিত, প্রকাশ্যে যাতায়াত, বিলাসী ভ্রমণের ছবিও নজরে এসেছিল অনেকের। তবু এত কিছু দেখেও কেন নিজের দাম্পত্য ভাঙার সিদ্ধান্ত নেননি অনিন্দিতা। এই প্রশ্নেই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর নীরবতার মূল কারণ ছিল আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।
অনিন্দিতার কথায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিকভাবে হিরণের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। নিজের আলাদা কোনও স্থায়ী রোজগার না থাকায় সংসার চালানো এবং মেয়েকে বড় করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবেই স্বামীর উপর ছিল। সেই ভয় থেকেই তিনি হঠাৎ কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার সময়ও তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, টাকা থাকলে অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আর সেই বাস্তবতাই তাঁকে চুপ থাকতে বাধ্য করেছিল।
এরই মধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় হিরণ ও হৃতিকার বিয়ের ছবি। হৃতিকা নিজেই সামনে এসে জানান, তাঁদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনিন্দিতা আর চুপ থাকেননি। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আনন্দপুর থানায় গিয়ে হিরণের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। একজন স্ত্রী এবং মা হিসেবে সেই মুহূর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল নিজের সম্মান এবং সন্তানের নিরাপত্তা।
অনিন্দিতা আরও বলেন, হৃতিকার জীবনযাত্রা এবং বাস্তবতার মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হৃতিকা সাধারণ পরিবারের মেয়ে, কিন্তু হিরণের সঙ্গে থাকার ফলে হঠাৎ করেই বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। বিদেশ ভ্রমণ, দামি জীবনযাপন এসব দেখে তিনি আরও সতর্ক হয়ে ওঠেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, হিরণের সম্পত্তি বা আর্থিক দিক পুরোপুরি অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করে নিলে তাঁর মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুনঃ ‘নব্বই বছরে আমাকে পদ্মশ্রী নিতে হবে?’ কেন রাষ্ট্রীয় সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়? শেষ জীবনে কেন সংগীত জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন কিংবদন্তি গায়িকা?
এই পুরো সময়টায় মানসিক নির্যাতনের মাত্রাও অসহ্য হয়ে উঠেছিল বলে জানান অনিন্দিতা। তিনি একাধিকবার হিরণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছিলেন। হিরণ তখন শুধু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় আর দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ বাস্তব পরিস্থিতি নিজেই সব স্পষ্ট করে দেয়। আজ অনিন্দিতার লড়াই শুধুই নিজের জন্য নয়, বরং একজন মায়ের লড়াই হিসেবে দেখছেন অনেকে, যেখানে সন্তানের ভবিষ্যৎই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।






