দোলের ঠিক আগের দিনেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলেন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ স্বর্ণকমল দত্ত। এখন তাঁর দু’হাতেই ব্যান্ডেজ, আঙুল এবং হাতে পড়েছে মোট ১৮টি সেলাই। তবুও থেমে নেই কাজ। নতুন ধারাবাহিক শুধু তোমারই জন্য এর শুটিং চলছে জোর কদমে, আর সেই কাজের চাপে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও প্রায় নেই বললেই চলে। আহত অবস্থাতেই তিনি শুটিং ফ্লোরে উপস্থিত হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিনেত্রীর এই দৃঢ় মনোভাব ইতিমধ্যেই সহকর্মী এবং দর্শকদের নজর কাড়ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে একেবারে নিজের বাড়িতেই। স্বর্ণকমল নিজেই জানিয়েছেন, সেদিন তিনি সদ্য তেলের মালিশ করেছিলেন, যার ফলে পায়ের নিচে বেশ পিচ্ছিল ভাব ছিল। ঠিক সেই সময় মায়ের ফোন বারবার বেজে উঠছিল। তাড়াহুড়ো করে ফোন ধরতে যাওয়ার সময়ই বিপত্তি ঘটে। পা পিছলে আচমকা পড়ে যান তিনি। সামনে রাখা ছিল একটি বড় মাছের অ্যাকোরিয়াম, কিন্তু হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় সেটি আর খেয়াল করার সুযোগ পাননি। সরাসরি সেই অ্যাকোরিয়ামের উপরেই পড়ে যান তিনি।
পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকোরিয়াম ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধারালো কাচের টুকরো। সেই ভাঙা কাচের উপরেই গিয়ে পড়ে তাঁর হাত। মুহূর্তের মধ্যে আঙুল ও হাতের বিভিন্ন জায়গায় গভীর কেটে যায়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসকদের তাঁর হাতে মোট ১৮টি সেলাই করতে হয়। শুধু হাতই নয়, কোমর এবং পায়েও আঘাত পেয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুদিন তীব্র ব্যথা এবং ফোলা নিয়ে ভুগতে হয়েছে অভিনেত্রীকে।
আরও পড়ুনঃ “মানুষ বদলে যায়, ছিঃ ছিঃ করার কিছু নেই!” “বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে আমার কোনও আক্ষেপ নেই” জেভের সঙ্গে ১৬ বছরের দাম্পত্য ভাঙা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা শ্রীনন্দা শঙ্করের! নিজের জীবন নিয়ে কোন নতুন উপলব্ধি করলেন ভাগ?
তবে এত কষ্টের মধ্যেও কাজ থামাননি স্বর্ণকমল। নতুন ধারাবাহিক শুরু হওয়ায় শুটিংয়ের চাপও অনেক বেশি। ব্যাঙ্কিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে হচ্ছে, তাই বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ প্রায় নেই। এমনকি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইন্টারভেনাস ইনজেকশন নেওয়ার পরেও তিনি শুটিং ফ্লোরে পৌঁছে গিয়েছেন। সহকর্মীরা অবশ্য তাঁকে যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করছেন যাতে শুটিংয়ের সময় তাঁর কষ্ট কিছুটা হলেও কম হয়।
একদিন এমনও হয়েছিল যখন হাত, পা এবং মুখ এতটাই ফুলে গিয়েছিল যে শুটিংয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেই একদিন বাদ দিলে প্রায় প্রতিদিনই তিনি ব্যথা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। স্বর্ণকমল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত কষ্টের জন্য শুটিং নষ্ট করতে তিনি চান না। দর্শকদের জন্য এবং নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই তিনি এই কঠিন সময়েও দৃঢ়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই পেশাদার মনোভাব ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির অনেকের কাছেই প্রশংসিত হচ্ছে।






