‘মুখের উপর ‘না’ বলতে আমার একটুও ভাবতে হয় না!’ ঘ’নিষ্ঠ দৃশ্যে আপত্তিতে হাতছাড়া একাধিক কাজ, তবুও আত্মমর্যাদায় অনড়! বাবার আর্থিক লড়াই থেকে মায়ের লাল শাড়ি, জীবনের অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন বাসবদত্তা চ্যাটার্জি!

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ বাসবদত্তা চ্যাটার্জি (Basabdatta Chatterjee)। অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্ট বক্তব্য ও ব্যক্তিত্বের জন্যও তিনি বরাবরই আলাদা করে নজর কেড়েছেন দর্শকের। ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয় করে এই অভিনেত্রী দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। খ্যাতি লাভের পরেও আজও নিজের শর্তে চলতে ভালোবাসেন, আর সেই কারণেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবস্থান খানিক ব্যতিক্রমী।

দীর্ঘ বছর কেটে গেলেও এখনও বহু দর্শকের কাছে বাসবদত্তা মানেই ‘গানের ওপারে’- দামিনী চরিত্রে তাকে ভালবাসেন। সেই ধারাবাহিকের চরিত্র আজও তাঁকে চিনিয়ে দেয়। সময় বদলালেও দর্শকের স্মৃতিতে তাঁর সেই কাজের ছাপ এতটাই গভীর যে নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছে ওই একটি ধারাবাহিককে ঘিরেই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী। সেখান থেকেই উঠে আসে তার আসল জীবনের ছবি। বাসবদত্তা জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ফাইনান্সিয়াল দিক থেকে খুব বেশি গুছিয়ে যেতে পারেননি, কারণ তাঁর বাবার হাতে সেই সময়টাই ছিল না। সেই কারণে জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাদুর কাছ থেকেই তিনি আর্থিক ও মানসিক সাহায্য পেয়েছেন।

বাবার প্রয়াণের পর মায়ের পোশাক নিয়েও সমাজের একাংশ যেভাবে মন্তব্য করেছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “বাবা চলে যাওয়ার পর মা সাদা শাড়ি না পরে লাল শাড়ি পরছেন—এই নিয়ে যারা আলোচনা করেছে, তারা আমার চোখে ছোট হয়ে গিয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, বিনোদন জগতে তাঁর বন্ধুত্বের পরিধি খুবই সীমিত। হুট করে কাউকে দাদা-দিদি বলে আপন করে নেওয়া তাঁর স্বভাবে নেই। নিজের কাজ নিয়েও অতিরিক্ত পিআর (PR) করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন।

এখানেই থেমে থাকেননি বাসবদত্তা। অভিনেত্রী সাফ জানিয়েছেন, কাজ পাওয়ার জন্য কারও কাছে আবদার করা তাঁর দ্বারা সম্ভব নয়। এমনকি বহু ছবির চিত্রনাট্যে ঘনিষ্ঠ কিছু দৃশ্য পছন্দ না হওয়ায় তিনি ‘না’ বলেছেন, যার ফলে কাজ হাতছাড়া হয়েছে। তবুও তাঁর বক্তব্য একটাই—“মুখের উপর না বলতে আমার একটুও ভাবতে হয় না।” নিজের শর্তেই চলাই যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তা আবারও স্পষ্ট করে দিলেন বাসবদত্তা চ্যাটার্জি।

You cannot copy content of this page