‘একটা ছবিতে অভিনয় করব ‘না’ বলেছিলাম…শুটিং ফ্লোরে আমায় মা’রতে এসেছিল বুম্বা!’ একসঙ্গে একাধিক হিট ছবি, তবুও ছিল তিক্ততা? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়!

বিনোদন জগতে এমন কিছু মুখ আছেন, যাঁদের নাম শুনলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলাদা এক শ্রদ্ধা তৈরি হয়, সঙ্গে মুখে ফুটে ওঠে হাসি। ঠিক তেমনই একজন হলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। বাংলা ছবির পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের নিশ্চিত বিনোদন। একের পর এক ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু হাসিই নয়, বরং বাঙালি দর্শকের জীবনের নানা মুহূর্তের অংশ হয়ে উঠেছেন। কমেডি চরিত্রে তাঁর সাবলীলতা আজও টলিউডে উদাহরণ হয়ে রয়েছে।

তবে শুভাশিস মুখোপাধ্যায় মানেই যে শুধুই হাসির চরিত্র, বিষয়টা এমন নয়। কৌতুক অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নেগেটিভ, সিরিয়াস ও চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন। কখনও তিনি বন্ধুবৎসল মানুষ, কখনও আবার কঠিন বাস্তবের প্রতীক। চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙে গড়ে নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে আলাদা করে চেনায়। সেই কারণেই পরিচালক থেকে সহ-অভিনেতা—সকলের কাছেই তিনি ছিলেন ভরসার নাম।

নয়ের দশকের শেষভাগে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভাশিসের জুটি ছিল রীতিমতো সুপারহিট। একের পর এক ছবিতে এই জুটির সাফল্যের হাত ধরেই বাস্তব জীবনেও তাঁদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়ে ওঠে। শোনা যায়, প্রসেনজিৎ নিজেই বহু সময় পরিচালকদের শুভাশিসের নাম প্রস্তাব দিতেন। বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর পেশাদার সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক ছিল টলিউডের অন্যতম চর্চিত অধ্যায়।

কিন্তু সেই বন্ধুত্বের মাঝেই একদিন ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে শুটিং চলাকালীন হঠাৎ ফোনে প্রসেনজিতের নির্দেশ—অন্য এক স্টুডিওতে গিয়ে নতুন ছবির চিত্রনাট্য শুনে আসতে হবে। প্রসেনজিতের অনুরোধেই নাকি সেই চরিত্র লেখা। কিন্তু চিত্রনাট্য শুনে চরিত্রটি শুভাশিসের পছন্দ হয়নি। সেই কথা জানাতেই রীতিমতো রেগে যান বুম্বা ওরফে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘একজন মুস’লিম কেন হিন্দু দেবীর পুজো করবেন?’ হাসিন জাহানের বাড়িতে সরস্বতী বন্দনা ঘিরে তীব্র কটাক্ষ নেটিজেনদের! মডেল-অভিনেত্রীর সর্বধর্মসমন্বয়ের বার্তা পরিণত হলো বিতর্কে?

শুভাশিসের কথায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল যে মনে হয়েছিল, শুটিং ফ্লোরেই হাতাহাতি বেঁধে যেতো। চিৎকার, রাগ, অপমান—সব মিলিয়ে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য প্রসেনজিৎ শান্ত হয়ে তাঁকে বোঝান, ছবিটি তাঁদের নিজেদের ব্যাপার। শুধু ‘হ্যাঁ’ বললেই সব সামলে নেওয়া হবে। সেই ঘটনার পর আর কখনও বুম্বার অনুরোধে ‘না’ বলেননি শুভাশিস। এই স্মৃতিই যেন আজও তাঁদের বন্ধুত্বের গভীরতার সাক্ষ্য বহন করে।

You cannot copy content of this page