বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উত্তম কুমার মানেই আলাদা এক আবেগ। পর্দার বাইরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন ও পারিবারিক গল্প আজও কৌতূহলের কেন্দ্রে। মহানায়ক শুধু রুপোলি পর্দার নায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সময়ের প্রতিচ্ছবি—যাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক আর নীরবতা নিয়েও আলোচনা চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
উত্তম কুমারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি, বিতর্ক, ভালোবাসা ও না-পাওয়া গল্প। তাঁর পরিবারকে ঘিরে আগ্রহ কখনও কমেনি। গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি আজও সেই ইতিহাস বহন করে, যেখানে সময় যেন থেমে আছে। সেই বাড়িতেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন মহানায়কের পুত্রবধূ সুমনা চ্যাটার্জি—নাতনি নবনিতার উপস্থিতিতেই সম্ভব হয়েছিল এই কথা বলা।
সেই দিন সাংবাদিকরা পৌঁছন গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে। প্রথমে বলা হয় তিনি নেই, তবু অপেক্ষা। পরে নবনিতার ফোনে আশ্বাস মেলে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে সত্তরের দশকে থেমে থাকা বসার ঘর, দেওয়ালজুড়ে উত্তম কুমারের ছবি। সুমনা চ্যাটার্জি বেরিয়ে এলে প্রথমে ক্যামেরা দেখে একটু অস্বস্তি হলেও অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা হবে না জানানোয় তিনি কথা বলতে রাজি হন।
স্মৃতিচারণে তিনি জানান, প্রথমবার উত্তম কুমারের বাড়িতে যান শাশুড়ি গৌরী দেবীর সঙ্গে। সুপ্রিয়া দেবী তাঁকে শাড়ি দিলেও শুরুতে দু’জনকেই ভয় পেতেন তিনি। সময়ের সঙ্গে উত্তম কুমারকে নিয়ে ভয় কেটে যায়। শাশুড়ির সঙ্গে সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক যে সহজ ছিল না, তা বুঝলেও গৌরী দেবী কখনও মুখে বলতেন না। পুজো-পার্বণ নিয়েও মতভেদ ছিল—লক্ষ্মীপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো পর্যন্ত।
আরও পড়ুনঃ “বায়োলজি আর ফিজিওলজি ছাড়া ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও তফাত নেই…এক্স ক্রোমোজোমই বেশি জিন বহন করে” সাহসী বক্তব্যে সমাজকে আয়না দেখালেন ‘কালিপটকা’ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!
সুমনা চ্যাটার্জি আরও জানান, একবার জন্মদিনে উত্তম কুমার এই বাড়িতে এলে সুপ্রিয়া দেবী এসে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কন্যাসন্তানের নামকরণ নিয়েও অস্বস্তির মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। বিয়েতে সুচিত্রা সেন আসবেন ভাবেননি, অথচ বৌভাতের দিন তিনি এসে বলেছিলেন—“সারা জীবন শ্বশুরের হাত ধরে রেখো।” নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে তিনি নীরব থাকলেও, সামাজিক মতে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পরেও যেভাবে তিনি সংসার আগলে রেখেছেন, সেই অধ্যায় নীরব হলেও গভীর।






