“বায়োলজি আর ফিজিওলজি ছাড়া ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও তফাত নেই…এক্স ক্রোমোজোমই বেশি জিন বহন করে” সাহসী বক্তব্যে সমাজকে আয়না দেখালেন ‘কালিপটকা’ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

নতুন বছরে ওয়েব সিরিজের দুনিয়ায় নারীকেন্দ্রিক গল্প যে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। একদিকে যেমন থ্রিলার বা ক্রাইম ঘরানার আধিপত্য, তেমনই অন্যদিকে সমাজের আড়ালে থাকা না-বলা কথাগুলো তুলে ধরার চেষ্টাও চলছে। ঠিক এই আবহেই ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে স্বস্তিকা মুখার্জী ও শ্রুতি দাস অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কালিপটকা’। মুক্তির আগে থেকেই সিরিজটি ঘিরে কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।

মুক্তির পর একাধিক আলোচনায় উঠে এসেছে, ‘কালিপটকা’ শুধু আর পাঁচটা ওয়েব সিরিজ নয়। চরিত্র নির্মাণ থেকে শুরু করে গল্প বলার ভঙ্গি—সবটাই আলাদা। সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা মুখার্জী স্পষ্টই জানিয়েছেন, তিনি ভীষণ আশাবাদী, বিশেষ করে মহিলা দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। তাঁর কথায়, এমন অনেক ইচ্ছা বা সুপ্ত বাসনা থাকে, যা আমরা বাস্তব জীবনে করে উঠতে পারি না। কিন্তু সেগুলো যদি পর্দায় কেউ বাঁচিয়ে তোলে, সেটাই দেখার মধ্যে একরকম আনন্দ থাকে। এই সিরিজ সেই অনুভূতিটাকেই ধরতে চেয়েছে।

‘কালিপটকা’ মহিলা দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি। স্বস্তিকার মতে, এই শো-এর মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলো মেয়ে হিসেবে চাই, ভাবি, অনুভব করি—কিন্তু সামাজিক বাঁধাধরা নিয়মে করে উঠতে পারি না। শুধু তাই নয়, সিরিজে এমন এক শ্রেণীর মহিলাদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে, যাদের নিয়ে আমরা সচরাচর কথা বলি না, সিনেমা বা শো তো দূরের কথা। বাড়িতে কাজ করা মহিলা, পাড়ায় ঝাঁট দেওয়া কর্মী, রিকশাওয়ালার স্ত্রী—এই প্রান্তিক নারীদের দৈনন্দিন লড়াই, স্বপ্ন আর বাস্তবতাই ‘কালিপটকা’-র গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই আলোচনায় শ্রুতি দাস ছিলেন আরও বেশিস্পষ্টভাষী । সমাজে ছেলে-মেয়ের বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। শ্রুতির মতে, বায়োলজি আর ফিজিওলজি ছাড়া ছেলে-মেয়ের মধ্যে আলাদা কিছু নেই। বরং মজার ছলে তিনি বলেন, এক্স ক্রোমোজোম বেশি জিন বহন করে, তাহলে বায়োলজিক্যালি নারীরাই তো বেশি শক্তিশালী। এই বক্তব্য শুধু বিতর্ক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মানসিকতার বিরুদ্ধে একরকম প্রতিবাদ।

আরও পড়ুনঃ শরীরজুড়ে একের পর এক জটিলতা, তবু বেঁচে ফেরার আশা ছাড়েননি! চলছিল যুদ্ধ, শেষ পর্যন্ত ৫৪ বছরেই প্র’য়াত হলেন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক!

স্বস্তিকা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আরও গভীর একটি দিক তুলে ধরেছেন—গিল্ট আর শেমের চক্র। তাঁর কথায়, মেয়েদের জীবনের প্রায় সবকিছুই এই দুই অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যায়। কেউ খারাপ কথা বললে লজ্জা পাওয়ার দায় কেন মেয়ের হবে, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। লজ্জা তো হওয়া উচিত যে বলছে তার। এই ভাবনাগুলোকেই গল্পের ভাষায় বলতে চেয়েছে ‘কালিপটকা’। তাই এই সিরিজ শুধু বিনোদন নয়, সমাজের আয়নায় তাকানোর এক সাহসী প্রয়াস—যা অনেকদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page