“সেই দিন চোখ থেকে জল বেরিয়ে এসেছিল” রাজ চক্রবর্তী ফাঁস করলেন ভ’য়াবহ অভিজ্ঞতার কথা! টলিউডে র‍্যা*গিংয়ের শি’কার হতে হয়েছিল ‘হোক কলরব’ পরিচালককেও?

২০১৪ সালে ছাত্র সমাজের মধ্যে থেকে জন্ম নেয় হোক কলরব। মূলত বাংলাদেশের গায়ক অর্ণবের গান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই নামটি এসেছে, যার অর্থই হলো ‘মন খুলে বলো, শোরগোল হোক’। সিনেমার থিমও ঠিক এই কথাটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। যদিও নামটা তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়, তবে ছবির মূল বার্তাই হলো ছাত্র সমাজের মধ্যে অ্যান্টি-র‍্যাগিং আন্দোলন। দর্শকরা সিনেমায় পাবেন এক নতুন ধরণের সামাজিক বার্তা, যেখানে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, সচেতনতার কথাও উঠে এসেছে।

হোক কলরব কেবল একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়। এটি মূলত কলেজ-ছাত্রদের জীবন, তাদের সমস্যার সঙ্গে লড়াই এবং র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা দেয়ার জন্য তৈরি। সিনেমার গল্পে দেখা যাবে কিভাবে ছাত্ররা নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হয় এবং সমাজের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ছবির মূল উদ্দেশ্য হল তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক প্রেরণা তৈরি করা।

রাজ চক্রবর্তী সম্প্রতি ইন্টারভিউতে জানিয়েছেন, টলিউডে প্রথম পা রাখার সময় তিনি জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানে তাকে র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে হতো। একবার একটি দৃশ্যে খালি পায়ে বালির মধ্যে দৌড়াতে গিয়ে পা ফোসকা পড়ে গিয়েছিল। পরের দিন তিনি জানালেন যে জুতো পরে দৌড়াতে চান, তবে তাতেও তাকে কটাক্ষ করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল এখানে কি হিরো হতে এসেছিস, সেদিন রাজের চোখ থেকে জল বেরিয়ে এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বড় কোনো অবস্থান অর্জন করলে জুনিয়র আর্টিস্টদের মর্যাদা তার কাছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

অন্যদিকে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, টলিউডে প্রথম আসার সময় তাকে তার বাবার সঙ্গে তুলনা করা হতো। বলা হতো, তিনি বাবার মতো দেখতে নন এবং অভিনয়ও বাবার মতো পারবেন না। এই কারণে বারবার অপমানিত হতে হতো। তিনি জানিয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে এবং অভিনয় জীবনে নতুন উদ্যম তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ স্বামী এনেছিলেন সতীন, তবু সংসার ত্যাগ করেননি! নীরব য’ন্ত্রণায় সংসার আগলে রাখার গল্প, মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের অজানা তথ্য ফাঁস করলেন পুত্রবধূ সুমনা চ্যাটার্জি!

রাজ ও শাশ্বত দুজনেই একমত যে, টলিউডের বড় অভিনেতা বা পরিচালক হিসেবে তাদের দায়িত্ব শুধু সিনেমা বানানো নয়, নবীনদের পাশে দাঁড়ানোও। হোক কলরব এই বার্তাই তুলে ধরে, যে প্রতিটি ছাত্র ও জুনিয়র আর্টিস্টের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করা প্রয়োজন। সিনেমাটি তাই কেবল বিনোদন নয়, সমাজ সচেতনতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।

You cannot copy content of this page