বিনোদন জগতে তারকারা শুধুমাত্র তাঁদের অভিনয়ের জন্যই নন, ব্যক্তিগত মতামত, জীবনযাপন ও সামাজিক অবস্থানের জন্যও বারবার চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসেন। কেউ সাজ-পোশাকে আলোচনায় থাকেন, কেউ সম্পর্ক নিয়ে, আবার কেউ বা নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য সমাজের চলতে থাকা অনেক গণ্ডি ভেঙে দেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা জনপ্রিয়তার তোয়াক্কা না করে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকেন।
আর সেই কারণেই তাঁরা আলাদা করে নজরে পড়েন। সেই তালিকায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের নাম বরাবরই প্রথম সারিতে। স্পষ্ট কথা বলা, কোনও বিষয়েই রাখঢাক না করা তাঁর স্বভাব। সাজ, পোশাক, জীবনযাপন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক—প্রায় সব বিষয়েই তাঁকে ঘিরে সমালোচনা হয়েছে বারবার। তবু সেই সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো করেই আগাগোড়া চলেছেন অভিনেত্রী।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও স্বস্তিকা বরাবরই ভাঙা গড়ার খেলায় বিশ্বাসী। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত সিরিজ ‘কালিপটকা’-তেও দেখা গেছে সেই পরিচিত, তীব্র ও আত্মবিশ্বাসী স্বস্তিকাকেই। চরিত্র বাছাই হোক বা অভিনয়ের ধরণ, সব ক্ষেত্রেই তিনি বরাবরই প্রচলিত ছকের বাইরে হাঁটতে ভালোবাসেন। তবে এবার কাজের বাইরে গিয়ে একেবারে ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সমাজের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন স্বস্তিকা।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি খোলাখুলিই বলেন, তিনি ধূমপান করেন, বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করতে ভালোবাসেন—এতেই কি তিনি ‘খারাপ মা’ হয়ে যান? তাঁর কথায়, সমাজ ঠিক করে দিয়েছে ভালো মায়ের চেহারা, আচরণ আর অভ্যাস কেমন হওয়া উচিত। কিন্তু সেই সংজ্ঞা মানতে না পারলেই কি একজন নারী অপদার্থ? তিনি আরও বলেন ২০০১ সাল থেকে রোজগার শুরু করে তিনি নিজের আর্থিক নিরাপত্তাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “যুব সমাজের ক্ষমতায়ন, শিল্প-সংস্কৃতি এবং শিক্ষা…কেউ কথা রাখেননি, দিদি রেখেছে!” একদিকে ১০হাজার কোটি লোক, অন্যদিকে বিরোধী! দিদিই জিতবে, সিঙ্গুর মঞ্চ থেকে দাবি রচনা ব্যানার্জির! সভাস্থলেই জনতার তোপে বিদ্ধ অভিনেত্রী?
বড় বাড়ি বা গাড়ির বদলে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করেছেন, যাতে মেয়ের পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণে কারও কাছে হাত পাততে না হয়। মেয়ের বিদেশে পড়াশোনার জন্য কোনও ব্যাঙ্ক লোনও নেননি। অভিনেত্রীর প্রশ্ন একটাই—সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা কি একজন মায়ের দায়িত্ব নয়? নাকি সমাজের চোখে গ্রহণযোগ্য কিছু অভ্যাসই ভালো মা হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি? এই প্রশ্ন তুলেই নিজেকে ব্যঙ্গ করে ‘অপদার্থ মা’ বললেও, আসলে তিনি আয়না ধরিয়ে দিলেন সমাজকেই।






