বাংলা টেলিদুনিয়ার পরিচিত মুখ ‘নীলাদ্রি লাহিড়ী’র (Niladri Lahiri) প্রয়া’ণের খবর এখনও অনেকের কাছেই মানিয়ে নেওয়া কঠিন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন। বিভিন্ন জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁর কাজ দর্শকদের কাছে তাঁকে ঘরের মানুষ করে তুলেছিল। শুধু অভিনয়ই নয়, পরিচালনাতেও হাত পাকিয়েছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান এই শিল্পীর অসুস্থতার কথা ঘনিষ্ঠ মহলে জানা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত এমন বিদায় আসবে তা অনেকে ভাবতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, হৃদরোগজনিত সমস্যাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল তাঁর জীবন। মৃ’ত্যুর কিছুদিন আগে তাঁর বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেও ছিলেন। নির্ধারিত চেকআপের দিনই আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জেরেই তাঁর মৃ’ত্যু হয় গত বছর ২৯ শে জুলাই। প্রয়াণকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। অভিনয়জগতের সহকর্মীরা তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর শান্ত স্বভাবের কথা আজও স্মরণ করেন।
তবে এই শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে তাঁর মেয়ে ‘সম্পূর্ণা লাহিড়ী’র (Sampurna Lahiri) জীবনে। তিনি নিজেও পরিচিত মুখ বিনোদন দুনিয়ায়। বাবার চলে যাওয়ার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই, ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি তিনি মাকেও হারিয়েছেন! তাঁর মা ‘কবিতা লাহিড়ী’র (Kabita Lahiri) মৃ’ত্যুর খবর ঘনিষ্ঠ মহলে ছড়ালেও, কীভাবে বা কখন প্র’য়াত হয়েছেন সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। সম্পূর্ণাও ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।
উল্লেখ্য, এক বছরের ব্যবধানে জীবনের দুই সবচেয়ে ভরসার মানুষকে হারানো যে কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। কাছের মানুষদের মতে, এই সময়টা সম্পূর্ণার জন্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল। বাইরে থেকে যত প্রশ্ন উঠুক, ভেতরের লড়াইটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। তাই তাঁর নীরবতাকে অনেকেই স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এই পরপর শোকের অধ্যায়, তাঁর পরিবারের জন্য নিঃসন্দেহে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ “ওরে, ওষুধ কটা খেলি তাও জানিস না? আবার বি*ফ খাসনি কোনদিনও তাও মটন ভেবে খেয়ে নিলি?” “একদল অশি’ক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সিন ক্রিয়েট করে!” চেনার বোধ নেই? ‘অলিপাব’ কাণ্ডে, ত্বরিতার কটাক্ষে বি’দ্ধ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সংস্কৃতি!
এই ধাক্কা সামলে হয়তো তিনি নিজেই সবটা জানাবেন। এই কঠিন সময়ে সম্পূর্ণা লাহিড়ীর প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা। এত অল্প ব্যবধানে বাবা ও মাকে হারানোর শোক কোনোভাবেই প্রকাশ করা যায় না। তিনি যেন শক্ত থাকেন, আর প্রিয়জনদের স্মৃতি তাঁকে ভরসা জোগাক এই প্রার্থনাই রইল। সময় হয়তো ব্যথা কমাবে, কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকবে।






