“ওরে, ওষুধ কটা খেলি তাও জানিস না? আবার বি*ফ খাসনি কোনদিনও তাও মটন ভেবে খেয়ে নিলি?” “একদল অশি’ক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, সিন ক্রিয়েট করে!” চেনার বোধ নেই? ‘অলিপাব’ কাণ্ডে, ত্বরিতার কটাক্ষে বি’দ্ধ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সংস্কৃতি!

সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রতিক যে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, তার কেন্দ্রে রয়েছেন ভ্লগার-অভিনেতা ‘সায়ক চক্রবর্তী’ (Sayak Chakraborty)। পার্ক স্ট্রিটের নাম করা রেস্তোরাঁ ‘অলিপাবে’ (Olypub) খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে করা তাঁর একটি ভিডিও ঘিরেই, গতকাল রাত থেকে শুরু হয় নতুন করে সমালোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, মটনের বদলে তাঁকে ‘গোমাং’স’ পরিবেশন করা হয়েছে। বিষয়টি বোঝার পর তিনি রেস্তোরাঁর ওয়েটারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই পুরো ঘটনাটা সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নানান ব্যাখ্যা, প্রশ্ন আর বিতর্ক জন্ম দেয়। এই ভিডিও সামনে আসার পর অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন, পুরো বিষয়টি কি আদৌ অনিচ্ছাকৃত? না কি পরিকল্পিতভাবে বানানো কনটেন্ট? কেউ কেউ বলেন, এত বড় ভুল নামি রেস্তোরাঁর পক্ষে করা কি সম্ভব? যে খাবার জন্মে খাননি, সেটা খেয়েও বুঝতে পারেননি এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়! আবার কারও মতে, এই ধরনের ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উস্কে দিতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধুই খাবার সংক্রান্ত অভিযোগে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় বিতর্কে রূপ নেয়।

সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির লোকজনও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন। এই আবহেই অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়ের (Twarita Chatterjee) প্রতিক্রিয়া বিশেষ নজর কেড়েছে। তিনি সরাসরি সায়কের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত নিয়ে কোনও দ্বিধা থাকে না। ফেসবুকে ত্বরিতা লেখেন, “একদল অশিক্ষিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যারা কন্টেন্ট নয় সিন ক্রিয়েট করে! ওরে, ওষুধ কটা খেলি তাও জানিস না? আবার বিফ খাসনি কোনদিনও তাও মটন ভেবে খেয়ে নিলি? দুর্বল স্ক্রিপ্ট রাইটিং! এরপর কী?”

এই মন্তব্য দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। যদিও ত্বরিতার কথার মধ্যে মূলত দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে নাটক তৈরির প্রবণতাকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বদলে কিছু মানুষ পরিকল্পিত ‘চিত্রনাট্য’ বানিয়ে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। কী খাচ্ছেন, সেটা বোঝার মতো সাধারণ সচেতনতার অভাব দেখিয়ে তিনি বলেছেন যে, এই গল্পের ভিতটাই নড়বড়ে!

আরও পড়ুনঃ “টাকা পেয়ে প্রোগ্রামে দেরি করে আসবে আবার অ্যাটিটিউড দেখাবে!” “ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে লজ্জিত, অবিলম্বে উদ্যোক্তাকে ছেড়ে শিল্পীকে গ্রেফতার করা উচিত!” মিমি চক্রবর্তীর বনগাঁ কাণ্ডে বি’স্ফোরক, অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়!

এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ত্বরিতার প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছেই যেন সেই অনুচ্চারিত প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষ এতক্ষণ মনে মনে ভাবছিলেন। তিনি আবেগে ভাসেননি বা সরাসরি আক্রমণ করেননি, কিন্তু তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দর্শকের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য দায়হীনভাবে সংবেদনশীল বিষয় ব্যবহার করা ঠিক নয়। আর সেই কারণেই তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো বক্তব্য গোটা বিতর্কে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

You cannot copy content of this page