আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে, ২০০৫ সালের সেই ‘নোয়া নোয়া’ গান! মুক্তি পেতেই বিক্রি হয়েছিল ৫০ হাজার কপি! একটা গান কীভাবে রাতারাতি বদলে দিয়েছিল, আজকের অভিনেত্রী ময়না মুখার্জির জীবন?

২০০৫ সালের কথা, তখন ছোট বড় অনেক কিশোর কিশোরীর মধ্যে হঠাৎই উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল একটি গান যার নাম “নোয়া নোয়া”। গানটি কেবল সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে নয়, সাধারণ দর্শকের মধ্যেও এক বিশেষ উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তখনই ময়না মুখার্জি দেখা যায় এই গানে অভিনয় করতে—এক অন্যরকম রূপে যেটি সবার মন ছুঁয়ে যায়। তখনকার অভিনেত্রীর বয়স কম, কিন্তু তার অভিব্যক্তি এবং অভিনয় শৈলী ইতিমধ্যেই দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রথম দর্শনে মনে হয় যে গানটি কেবল ভালো সুর আর লিরিক্সের জন্য জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু আসলে এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান এবং অতীতের এক সরল প্রেমের গল্প, যা সাধারণ গ্রামীণ জীবন ও প্রেমের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল সেই সময়। গানটি প্রকাশ হওয়ার পর টপ টেন উড়িয়া গানের তালিকায় শীর্ষে ওঠে শুধু তাই নয় বাঙালিরাও এই গানকে খুবই পছন্দ করেছিল। ছোট ছোট দৃশ্য, ময়নার এক্সপ্রেশন, এবং সহজ সরল গল্প—সব মিলিয়ে গানটি দ্রুত শ্রোতার মন ছুঁয়ে ফেলে।

গানটি প্রকাশ হবার সময় অ্যালবাম বিক্রি হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশ হাজার কপি। এটি বোঝায় যে তখনও লোকজন ‘নোয়া নোয়া’ গানের প্রতি কতটা আগ্রহী ছিল। ময়না মুখার্জির অভিনয় এই সাফল্যের মূল কারণগুলোর একটি। তার অভিব্যক্তি এতই প্রাকৃতিক যে দর্শক সহজেই গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

ময়না মুখার্জির জন্য এই গান ছিল শুধু একটি ছোট কাজ নয়, বরং তার অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরু করার মুহূর্ত। ১৯৯৮ সালের “পৌষ ফাগুনের পালা” থেকে শুরু করে, ময়না আজও বিভিন্ন সিরিয়াল এবং নাটকে সক্রিয়ভাবে অভিনয় করছেন। এই গানই তার ক্যারিয়ারের এক নতুন দিক খুলে দেয়, যেখানে সাধারণ দর্শক ও কিশোর-কিশোরীরা তাকে আলাদা চোখে দেখতে শেখে।

আরও পড়ুনঃ “চলো আজই বাড়ি দিয়ে আসবো তোমায়!” বিয়ের পরই বাবার কাছে স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন নীলাঞ্জন? পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীতে, ব্যক্তিগত জীবনের কোন গোপন কথা ফাঁস করলেন ইমন চক্রবর্তী?

আজও এই গানকে মনে করলেই দর্শকদের মনে ভাসে সেই সরল প্রেম, সেই গ্রামের রূপ, এবং ময়নার চিরস্মরণীয় অভিনয়। এক ছোট গানের মাধ্যমে ময়না মুখার্জি প্রমাণ করেছিলেন যে প্রাকৃতিক অভিনয় ও আন্তরিক অভিব্যক্তি দর্শকের মনে কত গভীর ছাপ রাখতে পারে। এই গানটি শুধু ময়নার নয়, বরং সবার জন্য স্মৃতিময় হয়ে রয়েছে—যেটি সময়ের পরও এখনও শ্রোতার হৃদয়ে বেঁচে আছে।

You cannot copy content of this page