“উত্তম কুমার হলেও ১৩ দিনে কি ছবি করতে পারতেন?” ইন্ডাস্ট্রির বদলে যাওয়া কাজের গতি নিয়ে বি’স্ফোরক প্রশ্ন, সিস্টেমকে কাঠগড়ায় তুললেন তরুণ কুমারের নাতবৌ ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়!

তারকাখ্যাতি বা পারিবারিক পরিচয় যে সব দরজা সহজেই খুলে দেয়, এমন ধারণাকে এখন অনেকেই নতুন করে ভাবছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়ার বাস্তবতা যে বদলে গেছে, তা বারবার উঠে আসছে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায়। সেই আলোচনাতেই প্রায়শই উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sourav Banerjee) নাম। প্রয়াত অভিনেতা তরুণ কুমারের নাতি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বাদ পড়তে হয়েছে বারবার, এমন অভিজ্ঞতার কথাই শোনা যায় তাঁর কাছ থেকে। পরিচয় থাকলেই সুযোগ মিলবে, এই ধারণার সঙ্গে তাঁর পথচলা যেন ঠিক মেলে না।

প্রসঙ্গত, শুরুর দিকে গান নিয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ভাবতেন সৌরভ। ছোটপর্দার এক সংগীতমঞ্চ তাঁকে দর্শকের সামনে নিয়ে এলেও, সেখানেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁর কণ্ঠ সব ধরনের গান বহন করতে পারবে না। সেই ধাক্কা থেকেই অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়া। কিন্তু তাতেও সাফল্য তাৎক্ষণিক আসেনি। একের পর এক অডিশন, অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা মিলিয়ে পথটা ছিল ধৈর্যের পরীক্ষা। কাজের আশায় নিজের চেনা জায়গা ছেড়ে এগোনোর সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিল তাঁকে।

ঠিক এই লড়াইয়ের প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌরভের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী ত্বরিতা চট্টোপাধ্যায়কে (Twarita Chatterjee) প্রশ্ন করা হয়, উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্য বলে নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া অনেক সহজ? তিনি বলেন, “বাবারে! তাঁর নাতি-নাতনীদেরই কাজ পাওয়া সহজ হয় না, তো আমি কে? হয়তো দু’জন দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এইটুকু বলতে পারে যে এসে বসতে। এর থেকে বেশি কোনও সুযোগ কেউ দেবে না। তুলনা একটা বড় জিনিস এই ক্ষেত্রে। সবাই বলে যে, ‘ও তো ধরে কাছে হাঁটে না’, ও ‘তো তেমন নাম করতে পারেনি।’

আসলে সেই সময়টা আলাদা ছিল আর এই সময়টা আলাদা। তখন একটা ছবি করতে অনেক সময় নিয়ে কাজ করা হতো। এখন তো তার এক শতাংশই দেওয়া হয় না, ১৩ দিনে একটা ছবি হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন, ১৩ দিনে উত্তম কুমার হলেও কি ছবি করতে পারতেন?” তাঁর এই কথাতেই যেন স্পষ্ট যে সময় বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে আর সেই বদলের ভেতরেই লড়তে হচ্ছে সবাইকে। পরে অবশ্য সৌরভের জীবনে মোড় ঘোরে ‘পরশুরাম’ ধারাবাহিকের সুযোগের মাধ্যমে। সেই কাজ তাঁকে নিয়মিত পর্দায় নিয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে নতুন দরজা খুলতে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ “এবার একটু বিরতি নেব, প্রতি মুহূর্তে আমার হৃদয়ে…” ‘রাণী ভবানী’কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারাই ছিল আশীর্বাদ! ধারাবাহিক শেষ হতেই আবেগঘন রাজনন্দিনী পাল, দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভিজল চোখ!

উল্লেখ্য, প্রথম বড় সুযোগের কথা তিনি নাকি এখনও কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই স্মরণ করেন। এখন অনেক প্রস্তাব এলেও, সব কাজ হাতে না নিয়ে বেছে এগোনোর দিকেই ঝোঁক তাঁর। কর্মজীবনের মতো ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাঁদের ভাবনা আলাদা করে নজর কেড়েছে। ত্বরিতা অভিনয়ের পাশাপাশি পেশায় ডায়েটিশিয়ান, নিজের কাজ নিয়েও সমান ব্যস্ত। সৌরভের মতে, সম্পর্কে প্রতিযোগিতা ঢুকে পড়লে দূরত্ব বাড়ে। কে বেশি সফল, কে এগিয়ে, এই তুলনায় না গিয়ে একে অপরের শক্তি আর সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়াতেই তাঁরা স্বস্তি খুঁজে পান।

You cannot copy content of this page