“লবিবা’জি করি না, বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে মাখোমাখো সম্পর্ক নেই বলেও কাজও নেই আমার!” অভিনয়ে সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ, তবুও ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে নির্ভীক মন্তব্য! জন্মদিনে অকপট অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য!

সকালটা শুরু হয় শরীরচর্চা দিয়ে, তারপর নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, আর উদ্‌যাপন বলতে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একটু সিনেমা দেখা। অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্যের কাছে জন্মদিন মানেই আলাদা কোনও আয়োজন নয়, বরং নিজের মতো করে কাটানো এক শান্ত দিন। অন্যদের কাছে যেখানে জন্মদিন মানে বড় পার্টি আর জমকালো আয়োজন, সেখানে রূপার পছন্দ সাদামাটা ছন্দ। তাই বিশেষ এই দিনেও রোজকার জীবনযাপনের বাইরে খুব বেশি কিছু বদলায় না। নিজের নিয়ম আর অভ্যাসের মধ্যেই তিনি খুঁজে নেন আনন্দ।

আড়ম্বর কোনও দিনই তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল না। তাই জন্মদিনেও অতিরিক্ত কিছু চান না তিনি। পরিবারের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছেন রাতেই, শ্বশুর শাশুড়ির ফোন এসেছিল। যদিও সশরীরে গিয়ে দেখা করা হয়নি, তবু ভালোবাসায় ঘাটতি ছিল না। মধ্যরাতে স্বামীর ছোট্ট চমক আর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর উপস্থিতি দিনটিকে করে তোলে আরও বিশেষ। তবে খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনও ছাড় নেই। অন্যদের মতো ভারী মেনু নয়, এ দিনও তাঁর পাতে থাকে স্যালাড, কারণ সুস্থ থাকাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় উদ্‌যাপন।

ইদানীং পর্দায় তাঁকে তুলনায় কম দেখা যায়, তা নিয়ে দর্শকের কৌতূহল কম নয়। সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন খোলামেলা ভাবে। ইন্ডাস্ট্রির সকলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো হলেও তিনি কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অংশ নন। তাঁর কথায়, লবির রাজনীতি তিনি বোঝেন না, তাই হয়তো পরিচালকদের ভাবনায় প্রথমেই তাঁর নাম আসে না। একই ধরনের চরিত্র বারবার করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। নিজের অভিনয়ের পরিসরকে একঘেয়ে হতে দিতে চান না বলেই বেছে নিচ্ছেন সময়।

তবে কাজ থেকে সরে যাননি রূপা। অর্জুন দত্তের ছবি বিবি পায়রায় তাঁকে এক নতুন রূপে দেখা যাবে। এই কাজ নিয়ে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি আরও কিছু প্রকল্পের কথাবার্তাও চলছে। যদিও এখনই ধারাবাহিকে নিয়মিত দেখা যাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না অভিনেত্রী। তিনি সময় নিয়ে, নিজের পছন্দমতো চরিত্র বেছে এগোতে চান। তাড়াহুড়ো করে কাজ নেওয়ার বদলে মানসম্মত চরিত্রেই তাঁর আস্থা।

আরও পড়ুনঃ “জীবন আর আগের মতো নেই, মাত্র এক মাসেই বুঝেছি…” সন্তানের এক মাস পূর্তিতে কোন নতুন অনুভূতির কথা শোনালেন গায়িকা? নিদ্রাহীন রাত, তবু অনাবিল আনন্দ অদিতি মুন্সীর নতুন জীবনে!

রূপার জীবনদর্শন খুব স্পষ্ট, সাফল্যের চেয়ে শান্তি বেশি জরুরি। তাই জন্মদিনেও ঝলকানির বদলে তিনি বেছে নেন সংযম আর স্বাভাবিকতা। পর্দায় কম দেখা গেলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অটুট। দর্শকদের জন্যও রয়েছে নতুন চমক। নিজের মতো করে, নিজের গতিতে এগিয়ে চলাই তাঁর লক্ষ্য। সেই পথেই তিনি খুঁজে নিচ্ছেন নতুন অধ্যায়, নতুন সম্ভাবনা আর একরাশ শান্ত সুখ।

You cannot copy content of this page