সমাজ মাধ্যমে ইদানীং একাধিক বিষয়ে চর্চার মাঝেও, ভেসে ভেসে আসছে তাঁর নাম। না, নিজের কী ভুল সেটা তিনি ঠিক জানেন না বলেই দাবি! তবুও তাঁর একটিমাত্র পদক্ষে, বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলেছে তাঁকে। শহুরে জীবনের ভিড়ে দাঁড়িয়ে মানুষ তিলে তিলে কীভাবে বদলে যায়? সেই অভিজ্ঞতাই সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ‘মিমি চক্রবর্তী’ (Mimi Chakraborty)। আজ অভিনেত্রীর জন্মদিন। তাঁর কথায়, বড় শহরে এসে তিনি নিজের মধ্যেই এক অচেনা পরিবর্তন টের পেয়েছেন! ঠিক কেমন সেই পরিবর্তন?
এই শহর হাজারো মানুষের সঙ্গে যেমন সর্ম্পক গড়তে সাহায্য করেছে, তেমন নাকি স্বার্থের হিসেব কষতে শিখিয়েছে! অভিনেত্রীর ভাষায়, “স্বার্থপর কীভাবে হতে হয়, সেটা আমি এই শহরে এসে শিখেছি!” এই স্বীকারোক্তি কোনও অভিযোগের সুরে নয়, বরং বাস্তবের পর্যবেক্ষণ হিসেবেই সামনে এসেছে। ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা আর নিজেকে টিকিয়ে রাখার চাপ মিলিয়ে শহরের জীবন মানুষকে আলাদা এক মানসিক কাঠামোর দিকে ঠেলে দেয় বলেই তাঁর উপলব্ধি।
প্রসঙ্গত, এর সম্পূর্ণ উল্টো ছবি তিনি দেখেছেন বড় হয়ে ওঠার দিনগুলিতে। এতবড় শহরে তিনি মানুষ হননি, বরং সেই ছোট শহর বা পাড়ার পরিবেশে মানুষ একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে থাকা, সাহায্য করা ছিল স্বাভাবিক অভ্যাস। প্রতিবেশী মানে ছিল চেনা মুখ, দরকারে পাশে দাঁড়ানো মানুষ। কিন্তু এই ইট-কাঠ, পাথরের মহানগরে এসে তিনি বুঝেছেন যে “একই বিল্ডিংয়ে থেকেও অনেকে একে অপরের নাম পর্যন্ত জানেন না!” সম্পর্কের জায়গায় যেন দূরত্বটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনটাই তাঁকে ভাবিয়েছে সবচেয়ে বেশি। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়লেই সেই পার্থক্যটা আরও স্পষ্ট হয়, বলেও তিনি জানান। বিজয়া দশমী আসলেই কীভাবে মানুষ উদগ্রীব হয়ে উঠতেন একে অপরকে সঙ্গে যোগাযোগের জন্য। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রণাম করা, বড়দের আশীর্বাদ নেওয়া, আর সঙ্গে বাড়ির তৈরি মিষ্টি বা নোনতা খাবার ভাগ করে খাওয়ার মধ্যেই ছিল এক ধরনের সহজ সামাজিক বন্ধন। এখন সেই শুভেচ্ছা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ফোনকল বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে।
প্রযুক্তি সহজ করেছে যোগাযোগ, কিন্তু উষ্ণতা কমেছে বলেই তাঁর মনে হয়। তবে এই উপলব্ধির মাঝেও তাঁর নিজের পথচলা থেমে থাকেনি। অভিনয়জগতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিচিত মুখ। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, পাশাপাশি সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের জন্যও বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। কর্মজীবনের সাফল্য তাঁর পরিচিতির পরিসর বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার অভিজ্ঞতাও সমানভাবে সঙ্গী হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “বিয়েটা কিন্তু আল্টিমেট নয়, আগে নিজেকে স্বাবলম্বী করা জরুরি…একই ছাদের তলায় থেকে ‘লিভ-ইন’ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত!” স্পষ্ট বার্তা পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের! ভবিষ্যতে ছেলে ওশ’ও কি এই মূল্যবোধ নিয়েই এগোবে? কি জানালেন অভিনেত্রী?
অভিনয়ের বাইরে জনজীবনেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ হিসেবে দায়িত্বও পালন করেছেন কয়েক বছর। বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ তাঁর অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করেছে। তবু শহুরে জীবনের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে ব্যক্তিগত উপলব্ধি তাঁর মধ্যে জন্ম নিয়েছে, ‘মানুষ ধীরে ধীরে নিজের গণ্ডির ভেতরেই আটকে পড়ে’ সেই কথাটাই তিনি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন বুঝতে পারাটাই আজকের সময়ে বড় শিক্ষা।






