গত মাসের মাঝামাঝি, দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন টলিউড অভিনেতা তথা কেন্দ্রীয় শাসকদলের বিধায়ক ‘হিরণ চট্টোপাধ্যায়’ (Hiran Chatterjee) । বিষয়টি শুধুই ব্যক্তিগত থাকেনি, কারণ তাঁর প্রথম স্ত্রী ‘অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়’ (Anindita Chatterjee) সেই সময় দাবি করেন, তাঁদের আইনত বিচ্ছেদ হয়নি এখনও! সেই অভিযোগ ঘিরেই পরবর্তীতে আইনি জটিলতার সূত্রপাত। অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা দায়ের করেন হিরণের প্রথম স্ত্রী এবং কন্যা।
এদিকে ঋতিকা গিরি, মানে অভিনেতার দ্বিতীয় স্ত্রী সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল, অনেক আগেই তারা বিয়েও করেছেন এবং অনিন্দিতার দাবিতে নাকি বাস্তবের সঙ্গে কোনও মিল নেই! তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উষ্কে দেয়। পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনিন্দিতাও। ফলে ঘটনাটি এখন কেবল দাম্পত্য বিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে, বরং একাধিক পক্ষের বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি জটিল আকার নিয়েছে।
ওদিকে মামলার করার পরেই, দিল্লি থেকে ফিরে এসে হিরণ আগাম জামিনের আবেদন করেন হাই কোর্টে। যা আজকেই মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইন এবং আদালত থেকে স্বস্তি পাওয়ার পর হিরণ প্রকাশ্যে নিজের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন! এদিন তাঁর কথায়, আদালতের প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রেখেই তিনি এগিয়েছিলেন এবং বিচারব্যবস্থা যে নির্দেশ দিয়েছে, তা মেনে চলবেন। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহী বলেও স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল “আদালতেই যা বলার বলেছি, সেই পথেই এগোতে চাই।
আমি সবাইকে যেমন সম্মান দেই, আমারও তেমন সন্মান প্রাপ্য। পারিবারিক বিষয় আর জনসমক্ষে টেনে আনতে চাই না, সম্মান বজায় থাকুক সবার।” এই ঘটনায় আরও একটি দিকও সামনে এসেছে। জানা গেছে, কিছুদিন শহরের বাইরে থাকার পর কলকাতায় ফিরেই বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন হিরণ। আদালতে আবেদন জানাতে গিয়ে তিনি নাকি পরিবারের মর্যাদা এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন। ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে তিনি বিষয়টিকে প্রকাশ্য আলোচনার বাইরে রাখতে চাইছেন।
আরও পড়ুনঃ “এই শহরই আমাকে নিজের কথা আগে ভাবতে শিখিয়েছে…নিজেকে বাঁচাতে গিয়েই হিসেবি হয়েছি, আগে স্বার্থপর ছিলাম না!” আন্তরিক পরিবেশ ছেড়ে, শহরে এসে মানসিক বদলের কথা স্বীকার করলেন মিমি চক্রবর্তী!
কারণ তাঁর মতে আইনি প্রক্রিয়াই বিরোধ মেটানোর উপযুক্ত জায়গা। এই মুহূর্তে ঘটনাটির মীমাংসার প্রক্রিয়া এখন ঠিক পথে এগোচ্ছে বলেই খবর। কে কতটা ঠিক, তার উত্তর মিলবে আদালতের বিচারের শেষেই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা ব্যক্তিগত তথ্য মুহূর্তে জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, আর তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত দুই ক্ষেত্রেই। ফলে, পরিবারিক সমস্যা বা বিবাদ প্রকাশ্যে না আনতে চাইলে সমাজ মাধ্যমে তা পোস্ট করা থেকেও বিরত থাকা উচিত।






