“নিজেকে হিরণ সর্বত্র অনাথ বলে, এদিকে সাত ভাই-বোন, বাবাও নামী স্কুল শিক্ষক…সবার সঙ্গে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছে!” “ঋতিকা জ’ঘন্য মেয়ে, অবৈ’ধ সম্পর্ক স্থাপনের অসংখ্য ছবি আছে!” আগাম জামিন পেতেই হিরণকে তোপ প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার, প্রকাশ্যে তীব্র আ’ক্রমণ!

গতকাল কোর্ট থেকে আগাম জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর প্রকাশ্যে মুখ খোলেন অভিনেতা ও বিধায়ক ‘হিরণ চট্টোপাধ্যায়’ (Hiran Chatterjee)। তাঁর বক্তব্যে ছিল সংযমের সুর। তিনি জানান, শুরু থেকেই বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেছিলেন এবং আদালতে যা বলার বলেছেন। ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে টেনে আনতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন। তাঁর মতে, আইনি প্রক্রিয়াই এই জটিল পরিস্থিতির সঠিক সমাধান দেবে। পরিবার ও সন্তানের সম্মান রক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন ঘনিষ্ঠ মহলে।

তবে জামিনের খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব। কারণ, এর পরেই হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় (Anindita Chatterjee) সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট, এবং তিনি কোনও রাখঢাক না রেখেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জামিন তারাই নেয়, যারা পাপ কাজ করে! হিরণের কথা পরে, আগে ঋতিকা একটা নির্ল’জ্জ এবং জ’ঘন্য মেয়ে! প্রাপ্তবয়স্ক হতেই একজন বিবাহিত মানুষের বিছা’নায় উঠে পড়েছে! এমনই যে আমাদের হিন্দু ধর্ম এবং আইন দুটোকেই অবমাননা করেছে। প্রথমত, শিক্ষিত মেয়েরা এটা করে না।

ডিভোর্স হয়নি যেখানে আমাদের, সেখানে একজন একমাথা সিঁদুর পরে ঘুরে বেরালেই তো আর হবে! শুধু যে স্ত্রীর দাবি করছে তাই নয়, হিরণের সঙ্গে যে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছিল তাঁর অসংখ্য প্রমাণ ওর সমাজ মাধ্যমেই আছে। এমনকি অনেক “ন্যাস’টি” ছবিও আছে। যেগুলো একজন বিধায়ক বা অভিনেতার মেয়েকে যখন তার বন্ধুরা পাঠায়, তখন যে তার কত লজ্জা এবং যন্ত্রণা! বাবা হিসেবে সেইটা নিয়ে কোন তাপ-উত্তাপ না থাকলে, এই কাজগুলো করতে পারে না! কেউ যদি হিরণের কথা আর কাজগুলো যদি ভালো করে লক্ষ্য করে তাহলেই বুঝতে পারবে, মিথ্যে সহানুভূতির আশ্রয় নেয় সব সময়।

সারা জীবন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলে গেল! সারা জীবন মানুষকে বলে এসেছে ও অনাথ, ওর নাকি মা-বাবা নেই। অথচ হিরণ কিন্তু অষ্টম গর্ভের সন্তান। ওর আগে আরও সাতটা ভাই-বোন আছে, এমনকি বাবাও নামকরা শিক্ষক ছিলেন স্কুলের! মুখে বললেই তো আর শ্রদ্ধা পাওয়া যায় না, বুক ফুলিয়ে ঘুরলেই কেউ শ্রদ্ধার যোগ্য হয় না!” এই মন্তব্য সামনে আসার পর ঘটনাটি আরও তীব্র মোড় নিয়েছে। শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর। তখনই প্রশ্ন ওঠে, আইনি বিচ্ছেদ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না।

আরও পড়ুনঃ আগে মন, এখন শরীর! “যে স্বতন্ত্র বলত ভালোবাসা মানে ‘আত্মার বন্ধন’, সে আজ শরীরের যুক্তি দিচ্ছে!” “পবিত্র সম্পর্কের বুলি কই গেল, এখন কেন সম্পূর্ণতার অজুহাত?” স্বতন্ত্রর দ্বিচারিতা মানতে পারছেন না ‘চিরসখা’ দর্শকরা! এই বয়সে এসে কেন এমন দাবি? উঠছে প্রশ্ন!

অনিন্দিতার দাবি ছিল, তাঁদের সম্পর্কের আইনি ইতি এখনও টানা হয়নি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরিও সমাজ মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্ক বহুদিনের এবং আগেই বিয়ে হয়েছে। ফলে একাধিক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, দিল্লি থেকে ফিরে এসে আইনি পরামর্শ নিয়েই আগাম জামিনের আবেদন করেন হিরণ। আদালতের সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তি মিললেও, মূল মামলার নিষ্পত্তি এখনও বাকি।

You cannot copy content of this page