আগে মন, এখন শরীর! “যে স্বতন্ত্র বলত ভালোবাসা মানে ‘আত্মার বন্ধন’, সে আজ শরীরের যুক্তি দিচ্ছে!” “পবিত্র সম্পর্কের বুলি কই গেল, এখন কেন সম্পূর্ণতার অজুহাত?” স্বতন্ত্রর দ্বিচারিতা মানতে পারছেন না ‘চিরসখা’ দর্শকরা! এই বয়সে এসে কেন এমন দাবি? উঠছে প্রশ্ন!

স্টার জলসার ‘চিরসখা’ (Chiroshokha) ধারাবহিক এই কয়েক দিনে যেন অপ্রত্যাশিত একটি মোড় নিয়েছে। এতদিন যে স্বতন্ত্রকে দেখা গিয়েছে কমলিনীর নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠতে, সেই মানুষটাই এখন প্রশ্ন তুলছে তাঁদের সম্পর্কের ভিত নিয়ে! নতুন প্রোমো সামনে আসতেই বোঝা যাচ্ছে, দু’জনের মধ্যে জমে থাকা অভিমান আর অস্বস্তি এবার প্রকাশ্যেই ফেটে পড়েছে। বাড়ির সবার সামনে তর্কের সেই দৃশ্য যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে, সম্পর্কটা আর আগের জায়গায় নেই। দর্শকের কাছেও বিষয়টা অস্বস্তিকর, কারণ যে সম্পর্ক এতদিন মানসিক বোঝাপড়ার কথা বলেছে, সেখানে হঠাৎ করে শারীরিক সম্পর্কও ঢুকে পড়েছে!

কমলিনীর বক্তব্য স্পষ্ট যে ভালোবাসা মানে কেবল শরীর নয়, মনের গ্রহণযোগ্যতাই আসল। সে আঘাত পেয়েছে এই ভেবে যে স্বতন্ত্রও নাকি এখন বাকিদের মতোই তাকে বিচার করছে। তার কথায়, মানুষ তাকে সবসময় একটা নির্দিষ্ট ছাঁচে দেখতে চেয়েছে আর সেই ছাঁচের বাইরে গেলেই প্রশ্ন উঠেছে তার চরিত্র বা সিদ্ধান্ত নিয়ে। সে যখন বলে, স্বতন্ত্রও যদি তাকে বুঝতে না পারে তাহলে বেঁচে থাকার অর্থ কী? তখন সেখানে শুধু রাগ নয়, হতাশাও ধরা পড়ে। এতদিন যে মানুষটিকে নিজের বলে ভেবেছিল, তার কাছ থেকেই দূরত্ব তৈরি হওয়াটা তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্রর অভিমানও কম নয়। সে মনে করছে, কমলিনীর জীবনে সে কখনও পুরোপুরি জায়গা পায়নি। তিন সন্তানই নাকি তার প্রথম এবং শেষ অগ্রাধিকার, এই ধারণা থেকেই জন্ম নিয়েছে স্বতন্ত্রর নিরাপত্তাহীনতা। এমনকি সে সন্দেহ করছে, কমলিনী হয়তো এই বিয়ে নিয়ে ভিতরে ভিতরে অনুতপ্ত। এখানে এসে গল্পটা এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে দাঁড়িয়েছে। এতদিন যে মানুষ বলত, সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাস আর মনের মিলেই, সেই মানুষটাই এখন বলছে যে ‘শুধুমাত্র মানসিক সংযোগ যথেষ্ট নয়, শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও নাকি সমান জরুরি!’ এই বদলটা দর্শকেরও চোখ এড়ায়নি।

প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এতদিন যে ‘পবিত্র ভালোবাসা’র কথা বলা হচ্ছিল, সেটা কি শুধু কথার কথা ছিল? দু’জনের কথোপকথনে একটা বড় দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়। কমলিনী যখন জানতে চায়, ব্যক্তিগত জীবনে কাউকে মেনে নেওয়া মানেই কি শুধু শারীরিক সম্পর্ক? তখন তার প্রশ্নে যুক্তি আছে। স্বতন্ত্রও পাল্টা বলে, কেবল মন দিয়েও নাকি সম্পর্ক সম্পূর্ণ হয় না! এই টানাপোড়েনেই আসল সমস্যাটা ধরা পড়ে, তাঁরা কেউই একে অপরের প্রত্যাশা ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। একজন চাইছেন স্বীকৃতি, আরেকজন চাইছেন সম্পূর্ণ উপস্থিতি। কিন্তু সেই ‘সম্পূর্ণতা’র সংজ্ঞাই দু’জনের কাছে আলাদা।

আরও পড়ুনঃ টিআরপিতে এবার টানটান লড়াই! ‘পরিণীতা’র দাপটে কাবু সবাই, পিছু ছাড়ছে না ‘পরশুরাম’! ‘তারে ধরি ধরি’ও দিচ্ছে টক্কর, চাপে ‘রাঙামতি’! সেরা পাঁচে এলো কোন নতুন নাম?

এখানেই সম্পর্কের ফাঁকটা বড় হয়ে উঠছে। কমলিনীর চুপ করে যাওয়া কিংবা নিজের মৃ’ত্যুকামনাও যেমন স্বাভাবিক। স্বতন্ত্রর অভিযোগ, সে নাকি বাইরের মানুষ হয়ে গেছে নিজের স্ত্রীর কাছেই। আবার সে এটাও মনে করিয়ে দেয়, কুর্চির মতো মানুষদের প্রতিও কমলিনীর উদাসীনতা রয়েছে। সব মিলিয়ে ‘চিরসখা’ এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ভালোবাসার সংজ্ঞা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। মন আর শরীর কোনটা বেশি জরুরি, নাকি দুটোই সমান? নাকি আসল সমস্যাটা প্রত্যাশা আর অপূর্ণতার? উত্তর মিলবে পরের পর্বগুলোতেই।

You cannot copy content of this page