“এখন দুই-তিনজন মানুষকে নিয়ে পরিবার…রূপকথার গল্প বলা ঠাকুমা-দিদিমাদেরও পাওয়া যায় না, বাচ্চারা সঠিক মূল্যবোধ পাচ্ছে না!” বাড়িতে মানুষ কম, ঘর বেশি! যৌথ পরিবার ভাঙনের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের মানসিক বদল নিয়ে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের আক্ষেপ!

আজকের শহুরে জীবনে বড় বাড়ি, ভরা উঠোন আর একসঙ্গে অনেক মানুষের থাকার ছবি যেন ক্রমশ গল্পের বইতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অভিনেতা ‘শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়’ (Saswata Chatterjee) সম্প্রতি এই পরিবর্তন নিয়েই কথা বলতে গিয়ে এক গভীর অভাববোধের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এখনকার অধিকাংশ পরিবারই ছোট, দুই একজন মানুষ নিয়ে সীমাবদ্ধ। ফলে সেই পরিবেশ, যেখানে ঠাকুমা-দিদিমারা গল্প শোনাতেন, সন্ধেবেলা সবাই একসঙ্গে বসে সময় কাটাত, সেই চেনা দৃশ্যগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে!

একসময় বাড়ির ভেতরেই ছিল এক ধরনের স্বাভাবিক শেখার জায়গা। বড়দের আচরণ দেখে ছোটরা ধৈর্য, ভাগ করে নেওয়া, অপেক্ষা করার মতো গুণ রপ্ত করত অজান্তেই। এখন ফ্ল্যাটের চার দেওয়ালের মধ্যে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুই নিজেদের আলাদা এক জগতে ডুবে থাকে। পড়াশোনা, ফোন বা টিভি স্ক্রিন, নিজের রুম মিলিয়ে মেলামেশার সুযোগ কমছে। শাশ্বতের কথায় ইঙ্গিত, এই বদলে যাওয়া পারিবারিক কাঠামোই বাচ্চাদের মানসিক গঠনেও প্রভাব ফেলছে।

তিনি মনে করেন প্রযুক্তি অবশ্যই দরকারি, কিন্তু সেটাই যদি প্রধান সঙ্গী হয়ে ওঠে, তখন সমস্যা তৈরি হয়। আগে সমবয়সী ভাইবোন, পিসতুতো-জেঠতুতো আত্মীয়দের সঙ্গে খেলতে খেলতেই অনেক সামাজিক বোধ তৈরি হতো। ঝগড়া হতো, আবার মিলও হয়ে যেত, সেখান থেকেই সহনশীলতা শেখা। এখন অনেক শিশু ছোটখাটো বিষয়েও দ্রুত রেগে যাচ্ছে, কারণ মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসটা তৈরি হচ্ছে না আগের মতো।

প্রসঙ্গত, অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ না হয়ে বরং বাস্তব দিকটাই তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখন গল্প বলার মানুষ কমে গেছে অথচ গল্পের প্রয়োজন ফুরোয়নি বরং বেড়েছে! রূপকথা মানে শুধু কল্পনা নয়, মূল্যবোধ শেখার এক সহজ মাধ্যমও। বড়দের উপস্থিতি, তাঁদের সময় দেওয়া বা ভালো-খারাপের বোধ তৈরি করে এমন গল্প বলার মধ্যেই ছিল অদৃশ্য এক শিক্ষার প্রক্রিয়া। আজ সেই জায়গা অনেকটাই খালি!

আরও পড়ুনঃ ৭৫০ টাকা পারিশ্রমিক থেকে গ্ল্যামার কুইন! পরিচালকের সঙ্গে প্রেম করে মা’দক কে’লেঙ্কারিতে গ্রে’প্তার! কোমায় ১৫ দিন কাটিয়েও হার মানেননি! পর্দায় আ’গুনঝরা উপস্থিতি আর বাস্তবে বিতর্কিত জীবন, কে এই অভিনেত্রী?

সব মিলিয়ে তাঁর কথায় উঠে আসে এক ধরনের সতর্কবার্তা। নতুন প্রজন্ম আরও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, নিজের আরামের বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে! কিন্তু সমাজে টিকে থাকতে গেলে শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, মানুষের সঙ্গে চলার ক্ষমতাও জরুরি। তাই পরিবার ছোট হোক, জীবনযাত্রা আধুনিক হোক, তবু সম্পর্কের জায়গাটা যেন ফাঁকা না হয়ে যায়, সেটাই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন অভিনেতা। আপনাদের কী মনে হয়? অভিনেতার কথার সঙ্গে আপনারা কি সহমত?

You cannot copy content of this page