“‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ খারাপ নয়, তবে এটা সরকারের দানও নয়…ট্যাক্সের টাকা ফেরত নিন!” বাজেট ঘোষণার পর, ভাতা বৃদ্ধি ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়তেই, তোপ দাগলেন মিঠুন চক্রবর্তী!

বার্ষিক বাজেট পেশ হতেই, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সাম্প্রতিক এই প্রকল্পের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা। চলতি বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ এতদিন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসিক এক হাজার টাকা পেতেন, এখন তা বেড়ে হয়েছে পনেরোশো। তফসিলি জাতি, জনজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মহিলাদের ক্ষেত্রে ভাতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সতেরোশো টাকায়।

প্রকল্পটির পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি আর্থিক সহায়তার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বহু পরিবারে এই বাড়তি অর্থ কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। এই আবহে অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ ‘মিঠুন চক্রবর্তী’ (Mithun Chakraborty) নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। তাঁর কথায়, এই প্রকল্পকে এককথায় খারাপ বলা যায় না। বরং যাঁরা এর আওতায় পড়েন, তাঁদের এই সুবিধা নেওয়াই স্বাভাবিক।

কারণ সরকারের তহবিলে যে অর্থ থাকে, তা আসলে জনগণের করের টাকাই! এমন যুক্তিও তিনি তুলে ধরেন। অভিনেতার কথায় এক ধরনের বাস্তবতার ছাপ রয়েছে। তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক স্লোগান তোলেননি, বরং সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ‘করদাতাদের অর্থ থেকেই যখন এই প্রকল্প চালু, তখন প্রাপ্য মানুষদের তা গ্রহণ করা নিয়ে দ্বিধার কারণ নেই।’ এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক শিবিরগুলির মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কারও মতে এটি জনমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি, আবার কেউ দেখছেন অন্য ইঙ্গিত। অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা মিঠুনের কথায় মানুষের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। প্রথম ছবিতেই জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, পরবর্তীকালে জনপ্রিয়তার জোরে তিনি সর্বভারতীয় পরিচিতি পান। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো জনজীবনের নানান প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য আলাদা গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুনঃ “আমার বউ অনেক দামি, রাগ ভাঙাতে শুধু গান গাইলে হয় না, ভালবাসি কথাটা সবসময় বলতেই…” ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে দাম্পত্যের অন্দরমহল নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় সোহিনী-শোভন! স্ত্রীর মন জয় করতে ঠিক কী করতে হয় গায়ক স্বামীকে?

তবে, এই কথা মানতেই হবে যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এখন শুধু একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নয়, বরং আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটের আগেই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রাজ্যের বহু মহিলার কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করলেও, এর আর্থিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এই পরিস্থিতিতে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো জনপরিচিত ব্যক্তিত্বের মতামত বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে এই প্রকল্প ঘিরে আলোচনা যে আরও বৃদ্ধি হবে, তা বলাই যায়।

You cannot copy content of this page