বিনোদন জগতে এমন বহু মুখ আছেন, যাঁরা হাতে গোনা এক বা দু’টি ছবিতেই দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন। বড় সাফল্য বা দীর্ঘ কেরিয়ার নয়, কখনও কখনও একটি চরিত্রই যথেষ্ট হয়ে ওঠে আজীবন মনে থাকার জন্য। সময়ের সঙ্গে তাঁরা পর্দা থেকে হারিয়ে গেলেও, স্মৃতিতে রয়ে যান অমলিন।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঠিক এমনই এক মুখ ছিলেন শিল্পা ভট্টাচার্য্য। ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মন মানে না’ ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর বিপরীতে নবাগতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। পরিচালনায় ছিলেন ইন্দর সেন। ছবির সাফল্য আর গান—‘একটা চিঠি দিলাম লিখে’—আজও নস্টালজিয়া উস্কে দেয়। শিখা চরিত্রে শিল্পার উপস্থিতি সেই সময়ে যথেষ্ট নজর কেড়েছিল।
তবু আশ্চর্যের বিষয়, নতুন ছবিতে সাফল্য পাওয়ার পরই ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে যান তিনি। একসময় শোনা গিয়েছিল পারিবারিক কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। বহু বছর পর একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন নায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানো শিল্পাকে দেখে আবারও চর্চা শুরু হয়—কেন হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পা নিজেই জানালেন আসল কারণ। তিনি যখন স্কুলে পড়তেন, তখনই ‘মন মানে না’-র অফার পান। ছবিটি মুক্তির পর দর্শকের কাছ থেকে বিপুল ভালোবাসা পান তিনি। তাঁর কথায়, এই ছবির মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি পান এবং আজও অনেকেই তাঁকে সেই চরিত্রের জন্য মনে রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ “গ্রাম থেকে শহরে কাজে আসা গৃহপরিচারিকারা তো চোর, অসাধু!” একপাক্ষিক অভিযোগে, বিতর্কের কেন্দ্রে পরমা বন্দ্যোপাধ্যায়! ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দাবি, কিন্তু প্রমাণ কোথায়? প্রশ্ন নেটিজেনদের!
কিন্তু ছবির কাজ শেষ হতেই তাঁর বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—আগে পড়াশোনা শেষ করতে হবে। সেই কারণেই স্বাভাবিকভাবে অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। পরে আর ফেরা হয়নি। তবে শিল্পা জানিয়েছেন, ভাগ্য ও সময় যদি সহায় হয়, ভবিষ্যতে আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরতে তাঁর আপত্তি নেই। এত বছর পর তাঁর এই স্বীকারোক্তিতে নস্টালজিয়া আর সম্ভাবনার নতুন আলো দেখছেন ভক্তরা।






