শিবরাত্রির সকালে হঠাৎই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে টালিগঞ্জের এক আবাসনে। টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর পাশের বহুতলে আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পাওয়া যায়, পঞ্চম তলায় প্রথম আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আবাসনের বড় অংশ। ওই ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে ছিলেন যশ দাশগুপ্ত, নুসরত জাহান, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভ্রজিৎ মিত্র সহ আরও অনেক পরিচিত মুখ। আতঙ্কে অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে দ্রুত নিচে নেমে আসেন তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল। তিনটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে। লিখিত বার্তায় নুসরত জানান, সবাই নিরাপদে আছেন এবং আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভে গেছে। তবে আগুন লাগার সময় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা সহজে ভোলার নয়। বহু বাসিন্দা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল আবাসনের বড় অংশ, ফলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
আগুন লাগার কারণ নিয়ে যা জানা গেছে, তা আরও উদ্বেগজনক। পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র জানিয়েছেন, শিবরাত্রির পুজো উপলক্ষে এক বাসিন্দার বাড়ির ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। আরতি করার পর সেই প্রদীপ নিভানো হয়নি বলেই সন্দেহ। বাড়ির লোকজন নীচে আবাসনের মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পরেই সম্ভবত সেই প্রদীপ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে, আর তাতেই তৈরি হয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি।
যে তলায় আগুন লাগে, তার ঠিক উপরের তলাতেই ছিল যশ এবং নুসরতের ফ্ল্যাট। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন তাঁরা। অন্যদিকে শুভ্রজিৎ মিত্র থাকেন ১৮ তলায়। অসুস্থ মাকে নিয়ে নামতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তিনি, কারণ তখন লিফট বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সিঁড়ি দিয়েই নামতে হয়। ততক্ষণে অনেক বাসিন্দাই আতঙ্কে দৌড়ে নিচে নেমে গিয়েছেন। ঘন ধোঁয়ায় দম বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ শুক্তো থেকে মাটন কষা, গন্ধরাজ ভেটকি! রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলির বিয়েতে রাজকীয় ভোজ! তারকা সমাগমে জমজমাট সন্ধ্যা, কারা দিলেন কী উপহার? সবার পাতে পড়ল আর কী কী?
আরও জানা গেছে, ওই আবাসনের কয়েকটি ফ্ল্যাটের মালিক প্রাক্তন রাজনীতিবিদ পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। একটি ফ্ল্যাটে থাকা ১৪টি সারমেয়কেও দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও এই ঘটনা বাসিন্দাদের মনে ভয় আর সতর্কতার বার্তা রেখে গেছে। উৎসবের দিনে এমন অঘটন যে কোনও সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো।






