ছোটবেলা থেকেই মায়ের আচার আচরণ দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। সংসারের মধ্যেই শিখেছেন ভক্তি, বিশ্বাস আর আধ্যাত্মিকতার অর্থ। তাই শিবরাত্রি এলেই তাঁর জীবনে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। সাধারণত এই দিনে মন্দিরে মহিলাদের ভিড়ই বেশি চোখে পড়ে, কিন্তু তাঁদের বাড়িতে ছবিটা আলাদা। শিবরাত্রির প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় আগের দিন থেকেই। নিরামিষ আহার, মানসিক প্রস্তুতি আর ভক্তিভরে পুজোর আয়োজন, সবটাই তাঁর কাছে গভীর ব্যক্তিগত অনুভবের অংশ। পারিবারিক সংস্কারই যেন তাঁকে এই আধ্যাত্মিক পথের দিকে ধীরে ধীরে টেনে এনেছে।
তাঁর মতে, ধর্মীয় আচারের আসল জায়গা মনেই। নিয়ম মানা বা না মানা নয়, ভক্তির গভীরতাই আসল বিষয়। তিনি জানিয়েছেন, কখনও দেখেছেন তাঁর মা নির্জলা উপোস থেকেছেন, আবার কোনও বছর শরীরের কথা ভেবে জল বা চা খেয়েছেন। এ বছর তিনিও হয়তো পুরো নির্জলা উপোস রাখতে পারবেন না, কিন্তু তাতে ভক্তিতে কোনও ঘাটতি হবে না। তাঁর কাছে শিবরাত্রি শুধু কোনও নির্দিষ্ট দেবতার আরাধনার দিন নয়, বরং এক সর্বজনীন ঈশ্বরচেতনার উপলব্ধি। বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগত সাধনা, কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।
আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকর্ষণ তাঁর বহুদিনের। ছোট থেকেই ধর্মগ্রন্থ পড়া, ভাবনা আর নিজস্ব উপলব্ধি গড়ে তোলা তাঁর অভ্যাসের অংশ। তিনি নিজেকে বিশেষ জ্ঞানী দাবি করেন না, কিন্তু এই বিষয় নিয়ে চর্চা করতে ভালোবাসেন। তবে কিছু প্রচলিত ধারণা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে। বিশেষ করে মহাদেবকে ঘিরে কিছু জনপ্রিয় ভুল ব্যাখ্যা তাঁর মতে অযৌক্তিক। ঈশ্বরের প্রতীক বা প্রতিমাকে নিয়ে তির্যক দৃষ্টিভঙ্গি বা ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়া তাঁকে কষ্ট দেয়। ধর্মকে তিনি দেখেন সম্মান আর উপলব্ধির জায়গা থেকে।
শিবরাত্রির রাতে তিনি জেগে থেকে পুজো করেন, যতটা সম্ভব ভক্তিভরে সময় কাটান। তবে সব কঠোর নিয়ম মানা সবসময় সম্ভব হয় না, সেটাও তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেন। শরীরের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও তিনি নিজের মতো করে সাধনা চালিয়ে যান। তাঁর কাছে ভক্তি মানে অনুশাসনের চেয়ে অনুভূতির গভীরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপোস, নিরামিষ আহার বা পুজোর রীতি সবই তাঁর কাছে এক ধরনের মানসিক শুদ্ধতার অনুশীলন।
আরও পড়ুনঃ শিবরাত্রির সকালেই অ’গ্নিকাণ্ডের আতঙ্ক, মুহূর্তে ধোঁয়ায় ঢেকে গেল বহুতল! দুই শিশুকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটলেন যশ-নুসরত! রাস্তায় টলিপাড়ার একাধিক তারকা!
শিবরাত্রির আগে ও পরে নিরামিষ আহার, মনকে শান্ত রাখা এবং রাতভর প্রার্থনায় সময় কাটানোই তাঁর প্রধান নিয়ম। কোনও জাঁকজমক নয়, বরং নিঃশব্দে নিজের ভেতরের বিশ্বাসকে শক্ত করে তোলাই তাঁর উদ্দেশ্য। পরিবার থেকে পাওয়া সেই আধ্যাত্মিক শিক্ষাই আজও তাঁর জীবনের অংশ হয়ে আছে। ভক্তি, বিশ্বাস আর ব্যক্তিগত অনুভূতির মিশ্রণে শিবরাত্রি তাঁর কাছে হয়ে ওঠে আত্মঅনুসন্ধানের এক গভীর সময়, যেখানে নিয়মের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে অন্তরের সংযোগ।






