তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী কে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। আইনি জটিলতা কাটার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে তাঁর জন্য। ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁর ফোন থেকে বেশ কিছু আপত্তিজনক ভিডিও উদ্ধার করেছে বলেও সূত্রের দাবি। এই নতুন তথ্য সামনে আসতেই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে এবং তদন্তকারীদের নজর এখন আরও গভীরে।
শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ঘটার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর কেন ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হল, সেটাই বড় প্রশ্ন। যদি অভিযোগ সত্যিই গুরুতর হয়ে থাকে, তবে তা আগে সামনে আনা হয়নি কেন, সেই বিষয়েও আদালতে সওয়াল তোলা হয়। তবে এই যুক্তির পাল্টা ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগকারিণীর পক্ষ থেকে।
অভিযোগকারিণীর আইনজীবীর বক্তব্য, এমন সংবেদনশীল ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনতে মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। ট্রমা কাটিয়ে ওঠা এবং আইনি পথে এগোতে সাহস জোগাতে সময় লাগা অস্বাভাবিক নয় বলেই দাবি তাঁদের। পাশাপাশি ইঙ্গিত মিলেছে যে, অভিযুক্তের বাবা মায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হতে পারে। কারণ তরুণীর দাবি, ঘটনাটি তাঁদের উপস্থিতিতেই ঘটেছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ বছর বয়সি এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত। বাড়ি বদলের সাহায্যের অজুহাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পরই অভিযুক্ত পালিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ ‘জনগণমন’ নয়, ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিভ্রান্তি না গুরুতর ভুল? চন্দননগরের অনুষ্ঠানে করা মন্তব্যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে তীব্র বিতর্কের মুখে অভিনেত্রী-সাংসদ?
উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকদিন আগেই একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। অনুরাগীদের চোখে যিনি ছিলেন সাহসী এবং জনপ্রিয় মুখ, তাকেই এখন গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর।






