“কথা বলতে পারে না, হাঁটতেও পারে না…অন্তত ছেলেটা আমার কাছেই আছে এটাই অনেক” আবেগঘন পৌলমী বসু চ্যাটার্জি! এক রাতেই কেন থমকে গিয়েছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি রণদীপ বসু-র স্বপ্নময় জীবন? বিবাহবিচ্ছেদের ঝড় পেরিয়ে বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে কেমন আছেন তিনি?

জীবনের পথচলা কখন যে হঠাৎ থমকে যাবে, তা আগে থেকে কেউ জানে না। এক মুহূর্ত আগেও সব কিছু স্বাভাবিক, আর পরের মুহূর্তেই বদলে যায় চেনা ছন্দ। স্বপ্ন, পরিকল্পনা, ব্যস্ততা—সব কিছুর মাঝখানে আচমকাই নেমে আসে অন্ধকার। তবু মানুষ বাঁচে আশায়, লড়াইয়ে, আর ভালো থাকার জেদে। প্রতিকূলতার মাঝেও কেউ কেউ খুঁজে নেন ইতিবাচক থাকার শক্তি।

এই লড়াইয়ের গল্পই যেন বহন করে চলেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর কন্যা পৌলমী বসু চ্যাটার্জি। নাচ ছিল তাঁর প্রথম ভালোবাসা, কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে ও সংসারের দায়িত্ব তাঁকে সরে যেতে বাধ্য করে সেই জগত থেকে। আজ তিনি নাটক নিয়েই ব্যস্ত। তবে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর লড়াই তাঁকে বারবার নতুন করে শক্তিশালী করে তুলেছে—বিশেষ করে ছেলে রণদীপ বসু-কে ঘিরে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছেলে রণদীপকে নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন পৌলমী। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ গভীর রাতে নিউ আলিপুর স্টেশন রোডে ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনার শিকার হন রণদীপ। বন্ধুর সঙ্গে বাইক চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা মারে তাঁর বাইক। মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সাইন্সে তাঁর ব্রেন সার্জারি হয়। বহুদিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর মৃত্যুকে হারিয়ে বাড়ি ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন রণদীপ।

দাদুর পথ অনুসরণ করে অভিনয়ে পা রাখা এই তরুণের প্রথম ছবি ছিল ফুটবলভিত্তিক। ধীরে ধীরে পরিচিতিও পাচ্ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর হাঁটাচলা, কথা বলা—সবই থেমে যায়। ২০২০ সালে দাদুর প্রয়াণ, তার কিছু পরেই দিদার চলে যাওয়া—সব কষ্টই নীরবে সহ্য করেছেন তিনি। আজও পুরোপুরি কথা বলতে পারেন না, তবে ধীরে ধীরে হাঁটার চেষ্টা করছেন। হুইলচেয়ারে বসে মায়ের নাটক দেখতে যান।

আরও পড়ুনঃ পরামর্শদাতা প্রেমিক তথা সুপারস্টার নাকি অতীত! স্বাধীন সিদ্ধান্তে নতুন অধ্যায় শুরু নায়িকার, কেরিয়ারে বড় মোড়ে পুরনো সম্পর্ক কি থাকবে অটুট? টলিপাড়ায় কার হাত ধরছেন উঠতি নায়িকা?

পৌলমীর কথায়, “অনেক ভাল আছে রণদীপ। নিজে উঠে বসতে পারে। মাথা খুব তীক্ষ্ণ, ভীষণ রসিক আর ইতিবাচক। জানে ওকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।” মায়ের বিশ্বাস, একদিন ছেলে আগের মতোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—ছেলে আজও তাঁর পাশে আছে, লড়াই করছে। নিজের বিবাহ বিচ্ছেদের জীবনে কঠিনতম সময়েও এই বিশ্বাসই তাঁর একমাত্র শক্তি।

You cannot copy content of this page