“মানুষের জন্য কিছু করতে, রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে ছিল” শিল্পী হিসেবে ভালোবাসা পেয়ে, সমাজের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন শান! “রাজনীতিতে এসো না” বাবুল সুপ্রিয়ের পরামর্শ! নিজে ক্ষমতার রাজনীতিতে থেকেও কেন নিরুৎসাহিত করেছিলেন? সহশিল্পীর উত্থানেই অস্বস্তি, নাকি অন্য কারণ?

বিনোদন জগতের তারকাদের রাজনীতিতে আসা এখন আর নতুন কিছু নয়। বড় পর্দা কিংবা মঞ্চের জনপ্রিয় মুখেরা ক্রমশ রাজনৈতিক ময়দানেও নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। কেউ সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে লড়ছেন, কেউ বা সামাজিক কাজের সূত্রে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে তারকাদের ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক ভাবনা—সবই এখন জনআলোচনার কেন্দ্রে।

এই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে জনপ্রিয় গায়ক শানের একটি মন্তব্য। শান জানিয়েছেন, একসময় তাঁরও ইচ্ছে ছিল রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার। তাঁর মনে হয়েছিল, রাজনীতিতে এলে সমাজের অনেক কিছু বদলানোর সুযোগ পাওয়া যায় এবং সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, তাই সেই ভালোবাসার প্রতিদান সমাজের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন বলেই জানান তিনি।

কিন্তু সেখানেই আসে আর এক পরিচিত নাম—বাবুল সুপ্রিয়। গায়ক হিসেবে হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত, লোকসভার সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর নেতা। এর আগে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি-র সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। শানের কথায়, বাবুল তাঁকে স্পষ্টভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন—রাজনীতিতে না এসে অন্য কোনও মাধ্যমে মানুষের সাহায্য করা যায়। সমাজসেবার জন্য রাজনীতিই একমাত্র পথ নয় বলেই নাকি মত ছিল বাবুলের।

তবে এই বক্তব্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ হয়েও কেন তিনি অন্য এক জনপ্রিয় গায়ককে রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত করলেন? কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী বানাতে চাইনি, কারণ তুমি বাবুলের চেয়ে ভালো।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “বাবুল তো দিদির কাছে ছ্যাঁকা খেয়েছে!”আরও একাংশের বক্তব্য, “যাতে ও একাই খেতে পারে”—এই মন্তব্যে রাজনৈতিক সুবিধা ও ব্যক্তিস্বার্থের ইঙ্গিতও খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ “কাঞ্চনের কোনও ক্ষমতা নেই…স্বামী হিসেবেও না, বিধায়ক হিসেবেও না!” “বিধায়কের স্ত্রী বলেই কোনদিনও ক্ষমতা ব্যবহার করিনি!” ক্ষমতা নেই, কীসের সুবিধা নেব? ‘জমাদার’ বলে, অভিনেতা-বিধায়ক স্বামীর ‘ক্ষমতা’ নিয়ে খোঁচা শ্রীময়ীর!

সব মিলিয়ে, এক শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের রং নিয়েছে। শান রাজনীতিতে আসবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই ঘটনায় স্পষ্ট—বিনোদন ও রাজনীতির সীমারেখা যতই মুছে যাক, জনমতের আদালতে প্রতিটি মন্তব্যই বর্তমানে কঠোরভাবে বিচারিত হয়।

You cannot copy content of this page