আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আবহ গরম হওয়ার মাঝেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা ও বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম। মামলাটি দায়ের হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। অভিযোগ, সোহম তাঁর কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েও পুরো অর্থ ফেরত দেননি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে সোহম জানিয়েছেন, টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি তিনি বারবার দিয়েছেন এবং এই বিতর্ক নির্বাচনের আগে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে।
শাহিদ, যিনি অভিনয় জগতে শুভম নামে পরিচিত, দাবি করেছেন তাঁদের পরিচয় বহুদিনের। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ২০২১ সালে তিনি সোহমকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ধার দেন। তাঁর কথায়, তখন তিনি সক্রিয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে আইনি জটিলতায় তিনি কিছু সময় সংশোধনাগারে থাকায় টাকা ফেরতের বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেননি। ২০২৩ সালে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি ফের যোগাযোগ করেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী দুই দফায় মোট ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত পান। এরপর আর কোনও অগ্রগতি হয়নি বলেই অভিযোগ।
শাহিদের অভিযোগ আরও গুরুতর মোড় নেয় যখন তিনি দাবি করেন, বারবার টাকা ফেরতের অনুরোধ করা সত্ত্বেও সোহম নাকি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন এবং উল্টে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে তিনি ঋণখেলাপির মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান। পাশাপাশি থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই বছরের বেশি সময় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পর আইনি পথেই এগোনো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।
অন্যদিকে সোহম ঋণ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। বরং তিনি জানিয়েছেন, ২০২১ সালে পাকা দেখা ছবির কাজের সূত্রেই তিনি ওই অর্থ ধার নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, শাহিদ আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা বললেও পরে তা দেননি। ফলে বাকি অর্থ অন্য সূত্র থেকে জোগাড় করতে হয়েছিল। তিনি ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং বাকি অর্থও শোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বাংলা ছবির ব্যবসার অনিশ্চয়তা এবং কয়েকটি ছবি আটকে থাকায় অর্থ জোগাড়ে সমস্যা হচ্ছে বলেই তাঁর বক্তব্য।
আরও পড়ুনঃ “মানুষের জন্য কিছু করতে, রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে ছিল” শিল্পী হিসেবে ভালোবাসা পেয়ে, সমাজের কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন শান! “রাজনীতিতে এসো না” বাবুল সুপ্রিয়ের পরামর্শ! নিজে ক্ষমতার রাজনীতিতে থেকেও কেন নিরুৎসাহিত করেছিলেন? সহশিল্পীর উত্থানেই অস্বস্তি, নাকি অন্য কারণ?
নির্বাচনের আগে এই পুরনো আর্থিক লেনদেন সামনে আসায় রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। সোহমের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, আইনি নোটিস পেয়েছেন এবং তাঁর আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। অন্যদিকে শাহিদও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুই পক্ষের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে।






