সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ছেলে আদিদেবকে নিয়ে মিষ্টি মুহূর্ত ভাগ করে নেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। মা আর ছেলের সেই সহজ সরল ভালোবাসা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তেই মন জিতে নেয়। কিন্তু এই সুখের ছবি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, শারীরিক কষ্ট আর অগাধ মানসিক শক্তির গল্প। মাতৃত্ব তাঁর জীবনে হঠাৎ আসেনি, বরং এক কঠিন পথ পেরিয়েই এসেছে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে চিকিৎসার একের পর এক ধাপ, অসংখ্য পরীক্ষার পর অবশেষে কোলে আসে আদিদেব, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যে অসাধারণ ধৈর্য আর যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, সে কথা নিজেই জানিয়েছেন সুদীপা। স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণ সম্ভব হয়নি বলে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল আইভিএফ পদ্ধতির। এই চিকিৎসা যেমন মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং, তেমনই শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর এবং খরচসাপেক্ষ। তিনি জানান, সন্তানের জন্মের আগে পর্যন্ত তাঁকে প্রায় ৩৯৪টি ইঞ্জেকশন নিতে হয়েছিল। প্রতিদিনের সেই শারীরিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি অবিচল মানসিক শক্তিতে। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে বারবার নতুন সাহস দিয়েছে।
এই দীর্ঘ চিকিৎসার পাশাপাশি চলছিল তাঁর পেশাগত দায়িত্বও। সে সময় তিনি জি বাংলার জনপ্রিয় রান্নার অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে শ্যুটিং করা, একসঙ্গে একাধিক পর্ব ধারণ করা, সব কিছু সামলে নিতে হয়েছে শারীরিক যন্ত্রণা সঙ্গী করেই। সন্তান লাভের আশায় নিজের ১২ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন তিনি। এমনকি মানসিক ভরসা পেতে মন্দির, মসজিদ, গির্জা কোথাও বাদ রাখেননি। তবুও কোনওদিন ভেঙে পড়েননি। অবশেষে ২০১৮ সালে আদিদেবকে কোলে পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
পরিবারের গল্পও কম আবেগময় নয়। স্বামী অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়র নামের সঙ্গে মিলিয়ে সন্তানের নাম রাখা হয় আদিদেব। অগ্নিদেবের প্রথম পক্ষের ছেলে আকাশকেও নিজের মতো করেই গ্রহণ করেছেন সুদীপা। মা হওয়ার জায়গা দখল করার চেষ্টা না করে তিনি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আকাশের সঙ্গে। সম্পর্কের এই মানবিক দিকটাই তাঁদের সংসারকে আরও উষ্ণ করেছে। সন্তানদের ঘিরেই এখন তাঁদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
আরও পড়ুনঃ টাকাই দেননি! ৬৮ লক্ষ টাকার ঋণ বিতর্কে সোহম চক্রবর্তী! নির্বাচনের প্রাক্কালে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিপাকে তারকা-বিধায়ক, কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের, পেলেন আইনি নোটিশ!
২০১৭ সালে আইনি মতে বিয়ে করেন সুদীপা ও অগ্নিদেব। তার আগেই পরিবারের পরিস্থিতির কারণে দ্রুত সম্পন্ন হয়েছিল তাঁদের সামাজিক বিয়ে। বয়সের ব্যবধান, অতীত সম্পর্ক, নানা সামাজিক কটাক্ষ কিছুই বাদ যায়নি তাঁদের জীবনে। ‘ঘর ভাঙানি’ তকমা থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ সবই শুনতে হয়েছে। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ভালোবাসা আর বিশ্বাসেই তৈরি হয়েছে তাঁদের সংসার। আজ সেই সংসারের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছোট্ট আদিদেব, যার জন্যই এত লড়াই, এত অপেক্ষা, আর এত ভালোবাসা।






