নতুন গাড়ি কেনার কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি বারবার মাঝরাস্তায় বিকল, এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেই বিতর্কের সূত্রপাত। ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rahul Banerjee) একটি ভিডিও বার্তায় জানান, দামি গাড়ি কিনেও যদি ছ’মাসে চারবার সার্ভিস সেন্টারে যেতে হয়, তবে প্রশ্ন তোলাই স্বাভাবিক। তাঁর বক্তব্য ছিল ভোক্তা সচেতনতার জায়গা থেকে, যে কেউ একই মডেল কেনার আগে যেন বাস্তব অভিজ্ঞতা জেনে নেন। কিন্তু অভিযোগের বিষয়টি দ্রুতই ব্যক্তিগত আক্রমণ আর পাল্টা মন্তব্যের দিকে মোড় নেয়।
এই ভিডিওর পরেই প্রতিক্রিয়া জানান অনন্যা গুহ (Ananya Guha)। তিনি খোঁচা দিয়ে বলেন, সমস্যা থাকলে যথাযথ জায়গায় অভিযোগ জানানো উচিত। যেমনটা তাদের বলা হয়েছিল, সমাজ মাধ্যমকে সার্ভিস সেন্টার ভাবলে হবে না। তাঁর মন্তব্যে সমর্থনও আসে। তবে, এই ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যে অনন্যা শুধুই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নন। শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত এবং ছোটপর্দায় নিয়মিত মুখ। ফলে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে অনেকেই বিষয়টিকে সহকর্মী-সিনিয়রের প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
এরই মাঝে পাল্টা জবাবে রাহুল সরাসরি নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন কেন ব্যক্তিগতভাবে না বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হল? তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্য কোনও ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে নয়, একটি বড় সংস্থার পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন। একই সঙ্গে পুরনো এক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে আলোচনার পরিধি গাড়ির ত্রুটি ছাড়িয়ে শিল্পী মহলের সম্পর্ক ও পারস্পরিক আচরণে গিয়ে ঠেকে। এই অবস্থায় ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রাজা গোস্বামী (Raja Goswami) প্রকাশ্যে অনন্যার সমালোচনা করেন।
তাঁর বক্তব্য, এক সময় সিনিয়র শিল্পীদের অভিভাবকসম মনে করা হত, এখনও অনেকেই সেই সংস্কার মানেন। কিন্তু এখন কিছু শিল্পী সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে অযথা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, কয়েকজন ফলোয়ারের জন্য নিজের সীমা ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। এমনকি আজকাল কিছু শিল্পী তাদের সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার শুরু করেছে সবার সঙ্গে! তিনি সরাসরি বলেন, “দু’চারটে ফলোয়ার্সের জন্য এরা নিজের মা-বাবাকে অস্বীকার করতে পারে। এরা বলতেই পারে মা-বাবার ফলোয়ার বেশি না তাই ত্যাগ করলাম।”
আরও পড়ুনঃ “এটা তো সবে শুরু…২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চাই!” অকারণে আইনি জটিলতায় প্রকাশ্যে অপমানের দাবি! বনগাঁ কাণ্ডে মিমি চক্রবর্তীকে আইনি নোটিস পাঠালেন তনয় শাস্ত্রী!
কারও খারাপ অভিজ্ঞতা হলে তা জানানোতেই বা আপত্তি কোথায়? এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। নিজের মর্যাদা ভুলে সবকিছুর মধ্যে নাক গলানোর তিনি তীব্র নিন্দাও করেন। সব মিলিয়ে, বিষয়টি এখন আর কেবল একটি গাড়ির ত্রুটি নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পীসুলভ সংযম, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের মর্যাদা এবং সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের প্রসঙ্গ। কে ঠিক, কে ভুল? তার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে, প্রকাশ্যে কথা বলার আগে সীমারেখা টানা কতটা জরুরি।






