মঞ্চে উঠেই দর্শকদের মন জয় করা সব সময় সহজ নয়। বিশেষ করে যখন তুলনা এসে পড়ে এক আইকনিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে, তখন চাপটা আরও বেড়ে যায়। সম্প্রতি কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হলেন ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’ (Rituparna Sengupta)। গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা, মাথায় ফুলের গাজরা, ঝুলছে লম্বা বেণী এবং মানানসই গয়না মিলিয়ে তিনি নিজেকে সাজিয়েছিলেন ‘চন্দ্রমুখী’র আদলে।
আর নাচের জন্য বেছে নিয়েছিলেন ‘ধাই সাম রোক লেই’ গানটি। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘দেবদাস’ (Devdas) ছবির স্মৃতি। এই গানটির সঙ্গে দর্শকদের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। কারণ ওই ছবিতে একই গানে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন ‘মাধুরী দীক্ষিত’ (Madhuri Dixit), যার নাচ আজও অনেকের কাছে এক প্রকার মানদণ্ড। ফলে সেই নাচ পুনরায় মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা নজর কাড়লেও, সমালোচনাও ডেকে এনেছে! অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই কৌতুক মন্তব্যের বন্যা।
কেউ লিখেছেন, “প্র্যাকটিস করে তবেই মঞ্চে উঠতে হয়, নিজের যোগ্যতা না জেনে সিদ্ধান্ত নিলে এমনই হয়।” কেউ আবার কটাক্ষ করে বলেন, “সাহস ভালো কিন্তু অত্যাধিক সাহস ক্ষতিকর।” কিছু মন্তব্য ছিল আরও তির্যক। এক নেটিজেন লেখেন, “এটা কি ট্রিবিউট, না ট্রাই-আউট?” অন্য একজনের কথায়, “সবাই সব কিছু করতে পারে না, সেটা মানলে ক্ষতি নেই।” কেউ তো আবার বলেছেন, “দেবদাসের চন্দ্রমুখী না, ভুতের ছবি চন্দ্রমুখী লাগছে! মাধুরী নিজেই না ভয়ে পেয়ে যায়।”
আবার কেউ মজা করে লেখেন, “মিসো থেকে কেনা মাধুরী মোটেও ভালো না, কম দামি কিনা!” এমনকি কেউ কেউ অনুষ্ঠান আয়োজকদের দিকেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যে এই ধরনের পরিবেশনার জন্য সঠিক লোকের খুব অভাব ছিল কি? যদিও সাজ-সজ্জা নিয়ে বড় কোনও সমালোচনা শোনা যায়নি, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শুধুই নাচের উপস্থাপনা। অবশ্য এই প্রথম নয়, দুবাইয়ের মঞ্চে নাচতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিছুদিন আগেও অন্য একটি উপস্থাপনা ঘিরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “দু’চারটে ফলোয়ার্সের জন্য এরা মা-বাবাকেও অস্বীকার করতে পারে!” রাহুল-অনন্যা বিতর্কে বি’স্ফোরক রাজা গোস্বামী! সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা মানেই চূড়ান্ত লাইসেন্স নয়, সিনিয়রকে প্রকাশ্যে কটাক্ষে তীব্র সমালোচনা অভিনেতার!
তবে অভিনেত্রী নিজে এই নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর অনুরাগীদের একাংশ আবার বলছেন, “মঞ্চে উঠে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহসটাই বড় কথা। সব পারফরম্যান্স নিখুঁত হবে, এমন প্রত্যাশা করাও ঠিক নয়।” তবে, মাথায় রাখতে হবে যে প্রযুক্তির যুগে প্রশংসা আর সমালোচনা পাশাপাশি চলে। একদিকে তির্যক মন্তব্য, অন্যদিকে সমর্থনের মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকে একজন শিল্পী। তুলনা এড়ানো যায় না, বিশেষ করে যখন প্রসঙ্গ আসে জনপ্রিয় ছবির একটি স্মরণীয় নাচের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মঞ্চে ওঠার সিদ্ধান্তটাও তো শিল্পীরই! সমালোচনা সত্ত্বেও সেই সাহসটুকুই হয়তো তাঁর ভরসা।






