কিছুদিন আগেই বনগাঁর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন আর শুধু মঞ্চের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। টলিউড অভিনেত্রী ‘মিমি চক্রবর্তী’র (Mimi Chakraborty) সঙ্গে তনয় দাস ওরফে ‘তনয় শাস্ত্রী’র (Tanay Sastri) ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে শুরু থেকেই চর্চা চলছিল। মিমির অনুষ্ঠানের মাঝখানে মঞ্চে উঠে এসে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তনয়ের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় অপমানিত এবং হেন’স্তার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে থানায় অভিযোগ জানান অভিনেত্রী। পরে পুলিশি পদক্ষেপ, গ্রেফতারি মিলিয়ে বিষয়টি দ্রুতই বড় আকার নেয়।
এরই মধ্যে আইনি লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই তনয় শাস্ত্রী মানহানির মামলা করে ২০ লক্ষ টাকার দাবি তুলেছেন অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে! প্রথম দিকে সমাজ মাধ্যমে বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অনেকেই মন্তব্য করেন, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিতর্ককে এত বড় অঙ্কের টাকার দাবিতে নিয়ে যাওয়া অতিরঞ্জিত পদক্ষেপ। সাধারণ দর্শকের চোখে বিষয়টি তখন একতরফা বলেই মনে হয়েছিল যে, একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন আর তার জবাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করছেন।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, এই দাবির নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ়। তবে পরিস্থিতি খানিক বদলায় যখন তনয়ের আইনজীবী প্রকাশ্যে জানান, ফেব্রুয়ারির শুরুতে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকেই প্রথমে ২ কোটি টাকার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল! সেই নোটিশে মা’নসিক য’ন্ত্রণা ও হেন’স্তার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই পাল্টা আর্থিক দাবি করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এই তথ্য সামনে আসার পর জনমতের একটা অংশের সুর পাল্টাতে শুরু করেছে।
কেউ কেউ বলছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের পরে পৌঁছনো নিয়েই বিতর্কের শুরু হয়ে থাকে, তবে অভিনেত্রীর সেটিকে আইনি জটিলতায় টেনে আনার সিদ্ধান্ত কি যুক্তিযুক্ত ছিল? আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেন, প্রথমে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে পরে অন্য পক্ষের দাবিকে কীভাবে অযৌক্তিক বলা যায়? এর মাঝেই কিছু মহল রাজনৈতিক যোগসূত্র খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে, যদিও সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ বা বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত যে অনুষ্ঠানে, সেটি ছিল জানুয়ারিতে নয়াগ্রামের একটি ক্লাবের আয়োজনে। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ দেরিতে পৌঁছেছিলেন অভিনেত্রী। এই বিষয়টিকেই সামনে রেখে তনয়ের দাবি, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং দর্শকদের অসন্তোষের কারণ সেই বিলম্ব। যদিও মিমির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, মঞ্চে উঠে তাঁর গান চলাকালীন যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই দুই বিপরীত বক্তব্যই এখন আইনি পরিসরে বিচারাধীন।
আরও পড়ুনঃ ‘কমফোর্ট জোন ভাঙতে হবে!’ ধারাবাহিকের গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটিতে প্রথম কাজ, সাহস যোগাতে সুস্মিতার সঙ্গে পাহাড়ে গিয়েছিলেন সাহেব? সুস্মিতার নতুন অধ্যায়ে সাহেবের ভূমিকা কতটা? জানলেন অভিনেত্রী নিজেই!
তবে, সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এখন নজর আদালতের দিকে। গোপন জবানবন্দি দিতে ইতিমধ্যেই আদালতে হাজির হয়েছিলেন অভিনেত্রী কিছুদিন আগেই। এবার দুই পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি-পাল্টা যুক্তির মধ্যেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ। শেষ পর্যন্ত কার দাবি টিকবে, কিংবা আদৌ কোনও সমঝোতার রাস্তা বেরোবে কি না, সেটাই দেখার। আপাতত বনগাঁর সেই এক রাতের ঘটনা আইনি এবং সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে।






