“বিয়ে তো না, যেন ড্যান্স শো দেখলাম!” “সাবেকি বিয়েতে বৌকে চ্যাংদোলা করে সাত পাকে ঘোরে জানতাম না, হিন্দি গানে ৬০-৭০ বার উদ্দাম নেত্য কি বাবা-মায়ের আমলেও ছিল?” বিয়ের পর ভাইরাল মন্তব্যে আ’গুনে ঘি! রণজয়-শ্যামৌপ্তির ‘সাবেকি’ বিয়ে ঘিরে নেটিজেনদের খোঁচা!

ভ্যালেন্টাইনস ডে-তেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ‘রণজয় বিষ্ণু’ (Ranojoy Bishnu) ও ‘শ্যামৌপ্তি মুদলি’ (shyamoupti Mudly) আর সেই কারণেই প্রথম থেকেই তাঁদের বিয়ে ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। অনুষ্ঠান মিটতেই ছবি-ভিডিওয় ভরে যায় সমাজ মাধ্যম। কিন্তু আসল চর্চা শুরু হয় তার পরেই, যখন বিয়ের আগে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার ফের সামনে আসে। সেখানে বিয়ের ধরন নিয়ে তাঁদের বক্তব্য আর বাস্তবে দেখা আয়োজনের মধ্যে ফারাক খুঁজে পেয়ে একাংশ নেটিজেন তীব্র কটাক্ষ শুরু করেছেন!

ফলে, শুভেচ্ছার পাশাপাশি তাই এবার আলোচনার কেন্দ্রে সমালোচনাও। সেই সাক্ষাৎকারে রণজয় জানিয়েছিলেন, বিশেষ দিন নিয়ে তাঁর বাড়তি উচ্ছ্বাস না থাকলেও শ্যামৌপ্তির কাছে ভালোবাসা দিবস ও বিবাহবার্ষিকী নাকি বেশ “মিষ্টি” উপলক্ষ। অন্যদিকে শ্যামৌপ্তি স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁরা নাকি খুব সাধারণভাবে, বাঙালি রীতি মেনে, একেবারে পুরোনো দিনের ছোঁয়ায় বিয়েটা করতে চান। সত্তরের দশকের মতো সাবেকি আয়োজন, ঠিক যেমন আমাদের মা-বাবাদের সময়ে হতো। এর থেকে বাড়তি কিছু করতে নারাজ অভিনেত্রী।

এই কথাগুলোই যেন এখন ফিরে ফিরে আসছে। কারণ, বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও দেখে নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, বাস্তব ছবিটা নাকি একেবারেই আলাদা! সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে একের পর এক মন্তব্যে। কেউ লিখেছেন, “বাহ্, বিয়ে হলো সাবেকি কিন্তু প্রিওয়েডিংটায় ওটা কী হলো? একবার ভেবে বলুন কি বলছেন!” আবার আরেকজনের বক্তব্য, “আপনারা যা সাজে বিয়ে করলেন বলার মতো না। কপালে কলকা আর বেনারসি শাড়ি ছাড়া বাঙালি সাবেকি আবার বলছেন পুরোনো দিনের বিয়ে, সেটা কি সম্ভব নাকি?”

কারও মতে, বিয়ের অনুষ্ঠানটা নাকি অনেক বেশি নাটকীয় ছিল, “বিয়েতে ৬০-৭০ বার নাচা আর বউকে কথায় কথায় কোলে তুলে নেওয়াটা কি বাবা-মায়ের আমলের বিয়েতেও ছিল?” কেউ আবার আরও তির্যক সুরে লিখেছেন, “বিয়ে তো না, যেন ড্যান্স শো দেখলাম, সাবেকি বিয়েতে বৌকে চ্যাংদোলা করে সাত পাকে ঘোরে জানতাম না!” শুধু সাজপোশাক বা নাচগান নয়, কিছু রীতিনীতির দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “তাহলে তো গায়ে হলুদ ও বর-বৌ একসাথে করা উচিৎ হয়নি।

আমরা কোনোদিনও এরকম দেখিনি। আগে এভাবে শুভদৃষ্টির আগে বর বৌর দেখা হোতো না।” আবার আরেকজন সরাসরি তুলনা টেনেছেন আগের প্রজন্মের সঙ্গে, “তোমাদের বাবা-মাও কি ওরকম উদ্দাম নেত্য করতে করতে বিয়ে করেছিলেন? কনে বগলে গাঁটছড়া গুঁজে হিন্দি গানের তালে কোমর দোলাচ্ছে আর বর বেশ ছেড়ে খোলা বুকের টিশার্ট পরে শাহরুখ খানের ভুপ্লিকেট গিরি করছে এটা বাঙালির কোন সাবেকি বিয়েতে দেখা গেছে মামনি?”

আরও পড়ুনঃ “বধূ নি’র্যাতনের মামলা করলেই সব শেষ নয়…সফল মানুষের জীবন নষ্ট করা সহজ, ভাবমূর্তি নষ্টের দায়ে প্রবাহ পদক্ষেপ নিক!” স্বামীর নামে মামলা, দাবি খোরপোষ! দেবলীনা কাণ্ডে প্রবাহর পাশে আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস! জানালেন, কী কী আইনি অধিকার রয়েছে প্রবাহরও?

এক কথায়, বিয়ের আনন্দের মধ্যেই এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও যেন নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে। যে পরিকল্পনাকে ‘সাবেকি’ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি, সেটাই এখন প্রশ্নের মুখে। অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তবু স্পষ্ট, এই বিয়েকে ঘিরে আলোচনা শুধু শুভেচ্ছায় আটকে থাকেনি, বরং কথার সঙ্গে কাজের অমিল নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে। এই বিষয়ে আপনাদের কি মতামত? আমাদের জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!

You cannot copy content of this page