“ফলোয়ার বাড়লেই বড় হওয়া যায় না, সিনিয়রকে অসম্মান মানেই নিজের মান ছোট করা…জনপ্রিয়তা সাময়িক, সম্মান চিরস্থায়ী!” সম্মান কেড়ে নেওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়! রাহুল-অনন্যা দ্বন্দ্বে জয়জিতের কড়া মন্তব্য! রাহুলের পাশে নীরব সমর্থন, অনন্যাকে পরোক্ষ তির?

টলিপাড়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে ঠান্ডা লড়াই। সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে এখন একটাই নাম ঘুরছে— রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনন্যা গুহ। একজন বহু বছরের প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। অন্যজন অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং আর ব্যক্তিগত লাইফস্টাইল কনটেন্টে বেশ জনপ্রিয় মুখ। কয়েকদিন ধরেই তাঁদের কথার লড়াই যেন নেটদুনিয়ার প্রধান আলোচ্য বিষয়।

ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য অন্য জায়গায়। পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তোরাঁয় গোমাংস বিতর্ক ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে চর্চা তুঙ্গে, তখন সেই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন রাহুল। ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তীর অভিযোগ এবং সেই সময় অনন্যার উপস্থিতি— সব মিলিয়ে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। রাহুল সরাসরি সমালোচনা করেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় অস্বস্তি, যা পরে গিয়ে রীতিমতো ব্যক্তিগত খোঁচায় রূপ নেয়।

এরপর আসে নতুন মোড়, সম্প্রতি নিজের নতুন কেনা গাড়ি বারবার খারাপ হওয়া নিয়ে একটি নামী গাড়ি সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রাহুল। তাঁর দাবি, ছ’মাসে চারবার গাড়ি বিকল হয়েছে। ভিডিও করে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতেই সুযোগ বুঝে অনন্যা নাম না নিয়ে কটাক্ষ করেন— যিনি ভিডিও বানানো নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন, তিনিই কি এখন ফেসবুককে সার্ভিস সেন্টার বানিয়ে ফেলেছেন? পাল্টা জবাবে রাহুল সরাসরি নাম নিয়ে আক্রমণ করেন এবং ‘ভীতু’ শব্দ ব্যবহার করে প্রশ্ন তোলেন। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে বিভক্ত। একদল বলছেন, রাহুল নিজের সমস্যার কথা বলেছেন— এতে দোষ কী? অন্যদল মনে করছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ না করলেই পারতেন। কমেন্ট বক্সে চলছে তর্ক, পাল্টা তর্ক, স্ক্রিনশট শেয়ার, লাইভ ভিডিও— উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বাড়ছে।

এই আবহেই মুখ খুলেছেন অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জি। সরাসরি কারও নাম না নিলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা। তিনি বলেন, ফলোয়ার বেশি থাকতেই পারে, জনপ্রিয়তাও বেশি হতে পারে। কিন্তু যে আগে পথ দেখিয়েছে, যে সিনিয়র— তাকে অসম্মান করা বড় হওয়ার লক্ষণ নয়। সম্মান দিলে সম্মান ফিরে আসে। অহংকার নয়, বিনয়ই একজন শিল্পীর আসল পরিচয়।

আরও পড়ুনঃ “কেমন যেন দেখতে, এই চেহারা নিয়ে নায়িকা হবে নাকি!” শুনেও থামেননি তিনি! সেই তাচ্ছিল্যই আজ মনামী ঘোষকে বানিয়েছে টলিউডের উজ্জ্বল মুখ! সাফল্যের শিখরে, তবু কেন আড়ালে তাঁর প্রেম জীবন? অভিনেত্রীর মনের মানুষকে চেনেন?

জয়জিতের এই মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। নাম না নিলেও বোঝা যাচ্ছে, তিনি পরোক্ষভাবে অনন্যাকেই বার্তা দিয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, এই মন্তব্য দুই পক্ষের প্রতিই ইঙ্গিত। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার— ব্যক্তিগত আক্রমণ আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং দর্শকরাই যেন এই লড়াইয়ের বিচারক হয়ে উঠেছেন। এখন দেখার, এই ঠান্ডা লড়াই শেষমেশ কোথায় গিয়ে থামে।

You cannot copy content of this page