এই গল্পটা হয়তো অনেকের কাছেই শোনা মনে হতে পারে, এতটাই বাস্তবের সঙ্গে মিলে যাওয়ার মতো। তবে, জানলে অবাক হবেন যে এই গল্পটা এক প্রজন্মের শৈশবের প্রিয় নায়িকার! জীবনে কেমন অনিশ্চয়তা এবং কষ্টের মধ্যে থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশেষ। একটা সময় এমনও ছিল, যখন প্রতিদিন কোথায় রাত কাটবে সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। স্থায়ী বাড়ি নয়, হোটেল থেকে হোটেলে ঘুরে বেড়ানোই ছিল বাস্তব। বাবা-মায়ের অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়াই সম্ভব হয়নি। অথচ পড়াশোনায় সে ছিল খুব ভালো।
ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নও দেখত। কিন্তু পারিবারিক টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে সেই স্বপ্ন ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা স্থির হয়েছিল হায়দরাবাদের একটি ছোট ভাড়া বাড়িতে উঠে যাওয়ার পর। মনে হয়েছিল, হয়তো এবার জীবন গুছিয়ে নেওয়া যাবে। ঠিক তখনই আচমকা বাবার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সব হিসেব পাল্টে দেয়। ধারদেনা করে মা দুই মেয়েকে নিয়ে মুম্বইয়ে আসেন, স্বামীর খোঁজে। একটি সস্তা লজে থেকে শুরু হয় নতুন লড়াই।
টাকার টান এতটাই তীব্র ছিল যে কখনও ভাড়া দেওয়ার উপায় থাকত না, কখনও খাবারেরও নিশ্চয়তা ছিল না। চাপের সেই দিনগুলোর কথা বহু বছর পরে তিনি প্রকাশ্যে আনেন। একসময় তাঁর মা এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যে তিনজনের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, খাবারের সঙ্গে বি’ষ মিশিয়ে। মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা মিলিয়ে সেই সিদ্ধান্তের কথা তিনি পরে নিজেই স্বীকার করেন। তখন বড় মেয়ের বয়স মাত্র ষোলো, ছোটটির বারো।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অন্ধকার চিন্তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। একটি দিন তাঁদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে তাঁর বিশ্বাস। কাছের একটি গির্জায় গিয়ে তিনি এক গভীর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার কথা অনুভব করেন। ফিরে এসে দেখেন, লজের দরজার বাইরে রাখা আছে একগুচ্ছ নতুন নোট, ঠিক যতটা টাকা দরকার ছিল বিল মেটাতে। ঘটনাটিকে তিনি আজও এক আশ্চর্য আশীর্বাদ হিসেবেই মনে করেন। এরপর ধীরে ধীরে জীবন আবার নতুন দিকে এগোয়।
আরও পড়ুনঃ “অনেককে ঠকিয়েছে, আমার নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করেছে…” জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ? টলিউড পরিচালকের নাম ভাঙিয়ে কারা করল এমন?
বছর কয়েক পর বাবার খোঁজও মেলে, ততদিনে তিনি নতুন সংসার শুরু করেছেন এবং অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তবু ক্ষোভ জমিয়ে না রেখে তিনি বাবাকে ক্ষমা করে দেন, এমনকি তাঁর শেষ সময়েও পাশে থাকেন। এই দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প যার, তিনি পরবর্তীতে টেলিভিশনে এক সাহসী সাংবাদিকের চরিত্রে দর্শকের মনে জায়গা করে নেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সম্প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শক্তিমান’-এর গীতা বিশ্বাস নামেই তাঁকে চেনেন অনেকেই। তিনি আর কেউ নন, অভিনেত্রী বৈষ্ণবী ম্যাকডোনাল্ড।






