“অজান্তেই নানা ধরনের রাজনীতির অংশ হয়ে পড়ি, আমি যখন অফিসে ঢুকি, আমাকে তখন…” কাজের বদলে অদ্ভুত ‘ফিজিক্যাল অফার’ নিয়ে মুখ খুললেন অনুরাধা মুখার্জী! বিনোদন দুনিয়ার ঝলমলে আলোর আড়ালের অন্ধকার অধ্যায় ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?

চকচকে আলো, ক্যামেরার ঝলকানি আর গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অজস্র অজানা গল্প। পর্দায় যাদের আমরা আত্মবিশ্বাসী আর নিখুঁত দেখি, তাদের জীবনের পথটা কিন্তু এতটা মসৃণ নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অনুরাধা মুখার্জী এমনই কিছু না-শোনা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন, যা একদিকে যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনই বাস্তবতারও কঠিন পাঠ।

অনুরাধা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে তিনি কখনও ভাবেননি যে অভিনয় জগতে আসবেন। নিজেকে চিনতে, নিজের শক্তি বুঝতে তাঁর অনেক সময় লেগেছে। ২০১৩ সালে খুব অল্প বয়সে তিনি মুম্বই পাড়ি দেন। তখনও চারপাশে একটা ধারণা ছিল—নায়িকা হতে গেলে বিশেষ চেহারা, বিশেষ গুণ বা আলাদা কিছু বিশেষত্ব থাকা জরুরি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি দেখেছেন, এখন চরিত্রভিত্তিক অভিনয়ের গুরুত্বই বেশি। প্রতিভা আর পরিশ্রমই শেষ কথা।

মুম্বইয়ে গিয়ে জীবন যে সহজ হবে না, তা খুব দ্রুতই বুঝে গিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স কম, সংসারের অনেক কাজই জানতেন না—সবজি কাটা থেকে রুটি বানানো পর্যন্ত। শেয়ারিং ফ্ল্যাটে থাকাকালীন অন্যান্য দিদিদের কাছ থেকেই এসব শিখেছেন। সেই লড়াই অভিনেত্রীকে আত্মনির্ভর হতে শিখিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাষার বাধাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। বাঙালি উচ্চারণের কারণে অনেক সময় হিন্দি ছবিতে সুযোগ মেলে না—এই বাস্তবতাও তিনি খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। তবুও প্রথম কাজ পান মারাঠি ছবিতে। সেই ছবির জন্য নতুন ভাষা শিখতে হয়েছে। পরে হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন, বিজ্ঞাপনের শুটও করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি বাংলায় ফিরে এসে কাজ শুরু করেন।

অভিনয়ের জগতে লড়াই শুধু কাজ পাওয়ার নয়, নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করে দেওয়ারও। অনুরাধা জানিয়েছেন, একবার একটি প্রোডাকশন হাউসে ছবির আলোচনা করতে গিয়েই তিনি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর কথায়, “আমি যখন অফিসে ঢুকি, আমাকে তখন ওরকম একটা কথা বলা হয়।” অর্থাৎ কাজের বিনিময়ে সরাসরি একটি ‘ফিজিক্যাল অফার’ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বুঝেই তিনি আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকেননি। কোনও আপস না করে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে কাস্টিং ডিরেক্টরকে ফোনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এই শর্তে তিনি কাজ করবেন না।

আরও পড়ুনঃ “পরবর্তী স্টেশন…প্ল্যাটফর্ম ডান দিকে” সেদিন থেকে আজও, এই কণ্ঠই হয়ে উঠেছে তিলোত্তমার পথনির্দেশ! ভাগ্য নাকি অভাব, কীভাবে ‘কলকাতা মেট্রো’র ঘোষণার দায়িত্ব পেয়েছিলেন মধুমন্তী মৈত্র? অবশেষে মুখ খুলে নিজেই জানালেন সবটা!

এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও জরুরি। প্রতিদিনের জীবনে আমরা অজান্তেই নানা ধরনের রাজনীতির অংশ হয়ে পড়ি, কিন্তু তার মধ্যেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনুরাধার মতে, প্রতিকূলতা মানুষকে ভেঙেও দিতে পারে, আবার গড়েও তুলতে পারে। তিনি বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয় পথটি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, অভিনয় তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়—আত্মসম্মান ও নিজের শর্তে বেঁচে থাকার এক অঙ্গীকার।

You cannot copy content of this page