“পরবর্তী স্টেশন…প্ল্যাটফর্ম ডান দিকে” সেদিন থেকে আজও, এই কণ্ঠই হয়ে উঠেছে তিলোত্তমার পথনির্দেশ! ভাগ্য নাকি অভাব, কীভাবে ‘কলকাতা মেট্রো’র ঘোষণার দায়িত্ব পেয়েছিলেন মধুমন্তী মৈত্র? অবশেষে মুখ খুলে নিজেই জানালেন সবটা!

‘পরবর্তী স্টেশন…, প্ল্যাটফর্ম ডান দিকে’—শব্দগুলো শুনলেই যেন ভেসে ওঠে কলকাতার ব্যস্ত সকাল। অফিসযাত্রীদের ছুটে চলা, স্কুল পড়ুয়াদের কোলাহল কিংবা সন্ধ্যাট ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা—সব কিছুর মাঝেই এক শান্ত, স্থির মহিলা কণ্ঠস্বর বছরের পর বছর পথ দেখিয়েছে তিলোত্তমার মানুষকে। অনেকেই মুখ চেনেন না, কিন্তু কণ্ঠস্বরটি অচেনা নয় কারও কাছেই। সেই পরিচিত স্বর ঘিরেই সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে। এআইয়ের(AI) যুগে স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার চল বেড়েছে। তবু কলকাতা মেট্রোর যাত্রীরা এতদিন যে কণ্ঠে অভ্যস্ত ছিলেন, তা ছিল মানবিক উষ্ণতায় ভরা। শোনা যাচ্ছে, সেই চেনা স্বরের জায়গার প্রেক্ষিতেই সামনে এলেন দীর্ঘদিনের সঙ্গী—মধুমন্তী মৈত্র। কীভাবে শুরু হয়েছিল তাঁর এই পথচলা? সেই উত্তর জানার কৌতূহল বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সম্প্রতি মধুমন্তী জানিয়েছেন, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি—তিন ভাষার জন্য আলাদা কণ্ঠ নির্বাচন করা হবে। কিন্তু পরে মেট্রো কর্তৃপক্ষের মনে হয়, একাধিক কণ্ঠে উচ্চারণ ও স্বরের পার্থক্য তৈরি হতে পারে। তাই এক জনের কণ্ঠেই তিন ভাষার ঘোষণা করানোই শ্রেয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠেছিল—কলকাতায় তো অসংখ্য মানুষ সাবলীলভাবে বাংলা বলেন, তবে সুযোগ এল শুধুমাত্র তাঁর কাছেই কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, একসঙ্গে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজিতে স্বচ্ছ উচ্চারণ ও সমান স্বরভঙ্গি—এই সমন্বয়টাই নাকি কর্তৃপক্ষের মন জয় করেছিল। প্রথমে তাঁকে দেখা হয় দূরদর্শনে। সেখান থেকেই যোগাযোগ। তারপর একাধিক রেকর্ডিং সেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, উচ্চারণ যাচাই—সব পেরিয়ে চূড়ান্ত হয় তাঁর কণ্ঠস্বর। ধীরে ধীরে সেই স্বর জুড়ে যায় শহরের প্রতিদিনের যাত্রাপথে।

আরও পড়ুনঃ খাবারে বি’ষ মিশিয়ে মেয়েকে শেষ করতে চেয়েছিলেন মা! মাত্র ১৬ বছরে স্কুল ছেড়ে হোটেলবন্দি জীবন! মায়ের চরম সিদ্ধান্ত থেকে অলৌকিক মোড়, শৈশব যেন সিনেমার চেয়েও নাটকীয়! চেনেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী কে?

আজ প্রযুক্তি এগোলেও, বহু মানুষের কাছে কলকাতা মেট্রো মানেই মধুমন্তী মৈত্রের কণ্ঠস্বর। হয়তো সামনে পরিবর্তন আসবে, হয়তো নতুন সিস্টেম চালু হবে। তবু এক সময়ের সেই ঘোষণা শহরের স্মৃতিতে থেকে যাবে আলাদা জায়গায়। কারণ, শুধু স্টেশনের নাম জানানো নয়—একটি কণ্ঠ কখন যে নাগরিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তা বোঝা যায় না সহজে।

You cannot copy content of this page