শিবরাত্রির পর আবার তারকাদের আবাসনে আতঙ্ক! পায়েল সরকার ও লহমা ভট্টাচার্যদের ৩০ তলা বহুতলে অ’গ্নিকাণ্ড, ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে আর্বানা! ৪০ মিনিট পর দমকল, প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করে কী অবস্থা অভিনেত্রীদের?

শিবরাত্রির সকালেই আচমকা আ’গুন লাগার ঘটনায় টালিগঞ্জ কেঁপে উঠেছিল। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই সোমবার আবারও একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হল শহরবাসীকে। এবার আ’গুন লাগে রুবি সংলগ্ন বহুতল আবাসন ‘আর্বানা’র (Urbana) চতুর্থ টাওয়ারে। বহুতলের পাঁচ তলা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, আর আতঙ্কে বাসিন্দারা যে যার মতো করে নিচে নেমে আসেন।

এই টাওয়ারে বসবাস করেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ। অভিনেত্রী পায়েল সরকার (Paayel Sarkar) জানান, প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেননি কী হয়েছে। তাঁদের রান্নাঘরের বাইরে অস্বাভাবিক ধোঁয়া দেখতে পেয়ে গৃহকর্মী তাঁকে ডাকেন। পরিস্থিতি বুঝতে দেরি হয়নি, দ্রুত নিচে নেমে যান তিনি। হঠাৎ এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সকলেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন।

কারও মাথাতেই প্রথম মুহূর্তে দমকলে খবর দেওয়ার কথা আসেনি। প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে দুটি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই আবাসনের ৩০ তলায় থাকেন অভিনেত্রী লহমা ভট্টাচার্য (Lahoma Bhattacharya)। তাঁর অভিজ্ঞতা আরও উদ্বেগজনক। এত উঁচু তলা থেকে নামতে সময় তো লাগেই, তার ওপর করিডর জুড়ে ঘন ধোঁয়া থাকায় কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। চারপাশে শুধু ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর দ্রুত নেমে আসার তাড়া।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে নিচে পৌঁছনোই তখন একমাত্র লক্ষ্য ছিল। আ’গুনের উৎস নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে আবাসনের কর্মীদের থেকে জানা গিয়েছে যে ফ্ল্যাট থেকে আ’গুনের সূত্রপাত, সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে শর্ট সার্কিট হয়ে থাকতে পারে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে অনুমান। বহুতলের মতো জায়গায় এমন ঘটনা যে কত দ্রুত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা এ দিনের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “দু’দিন ভ্লগ করে কিছুই করে ওঠোনি, স্বনামধন্য ব্যক্তিকে আক্রমণ করে সস্তার পাবলিসিটি কুড়োতে দম লাগে না!” প্রকৃত শিক্ষা শুধু পুঁথিগত নয়, সিনিয়রদের অপমান নিয়ে ভ্লগারদের একহাত নিলেন মধুবনী! অনন্যা-সুকান্তকেই কি পরোক্ষ খোঁচা?

এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বাসিন্দাদের মনে ভয় কাটেনি পুরোপুরি। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, জরুরি মুহূর্তে কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এই প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। এই মুহূর্তে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করলেও, কারোর কোনও শারীরিক ক্ষতির খবর মেলেনি। বহুতল জীবনের সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিও যে থাকে, এই ঘটনাই যেন তা আবার মনে করিয়ে দিল। শুধু তারকা নয়, সাধারণ মানুষেরাও কতটা নিরাপদ?

You cannot copy content of this page