বাংলা ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ নবনীতা দে। পর্দায় তিনি কখনও দৃঢ়চেতা, কখনও সংসারী, কখনও লড়াকু চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে ক্যামেরার আড়ালের অভিনেত্রীর জীবন ঝড়ঝাপ্টায় ভরা। সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অধ্যায় নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন অভিনেত্রী, আর সেখানেই উঠে এসেছে এক অস্বস্তিকর অতীতের গল্প।
নবনীতার জীবনের পথচলা কখনও খুব সহজ ছিল না। অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে। খুব অল্প বয়সেই আবেগের বশে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। সেই সিদ্ধান্তই ছিল প্রথম বিয়ে—যা পরবর্তীতে তাঁর জীবনের সবচেয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
অভিনেত্রীর কথায়, বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন বড় ভুল করে ফেলেছেন। “এত খারাপ একটা এক্সপেরিয়েন্স যে হতে পারে, তা কল্পনাও করিনি,”—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন নবনীতা। কিন্তু সংসারে ঢুকেই শুরু হয় অস্বস্তি, মানসিক চাপ এবং অশান্তি। ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, সম্পর্কটা তাঁর জন্য নিরাপদ নয়। তবু তখন আর পিছিয়ে আসার পথও সহজ ছিল না।
এই ঘটনার অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছিল তাঁর মায়ের উপর। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ের খবর পেয়ে তাঁর মা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সময় নবনীতার আগের স্বামী বাড়ির ল্যান্ডলাইনে ফোন করে জানায় যে সে নবনীতাকে বিয়ে করেছে। ফোনটা ধরেছিলেন তাঁর মা। সেই ফোন পেয়ে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা অভিনেত্রীর মা সেখানেই বসে ছিলেন। পরে তাঁর দাদা এসে তাঁকে সেখান থেকে ওঠান। মায়ের সেই নিঃশব্দ ভেঙে পড়া আজও অভিনেত্রী ভুলতে পারেননি।
আরও পড়ুনঃ শিবরাত্রির পর আবার তারকাদের আবাসনে আতঙ্ক! পায়েল সরকার ও লহমা ভট্টাচার্যদের ৩০ তলা বহুতলে অ’গ্নিকাণ্ড, ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে আর্বানা! ৪০ মিনিট পর দমকল, প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করে কী অবস্থা অভিনেত্রীদের?
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও শক্ত করেছে। এখন নতুন দাম্পত্য জীবনে তিনি অনেক বেশি স্থির ও সচেতন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ তিনি নিজের শর্তে বাঁচতে শিখেছেন। তবু প্রথম জীবনের সেই সিদ্ধান্ত এবং তার প্রভাব—বিশেষ করে মায়ের কষ্টের স্মৃতি—আজও তাঁর কথায় ফিরে আসে গভীর আবেগ নিয়ে।






