“সিপিএম আমলে প্রাথমিক স্তর থেকেই ইংরেজি তুলে দিয়েছিলো…ইংরেজির না পারার ভয়ে পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলাম” মন্তব্য রাজ চক্রবর্তীর! অভিজ্ঞতা ও শিক্ষানীতি নিয়ে, বিতর্ক উস্কে দিলেন পরিচালক! ইংরেজি বাতিলের কারণে কি সত্যিই এক প্রজন্মই বঞ্চিত হয়েছে সুযোগ থেকে?

আজকের যুগে শুধুমাত্র মাতৃভাষা জানা যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা থাকা এখন বাধ্যতামূলক। ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী মনে করেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইংরেজি শেখার অভাব এক প্রজন্মকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে দিয়েছিল এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, সময়মতো সুযোগ পেলে যোগাযোগ আরও সহজ হতো।

রাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন তাদের সন্তানদের ইংরেজি ভাষা শেখানোর জন্য। যদিও অনেকেই মনে করেন বাড়িতে ইংরেজি বলা অতিরিক্ত, রাজের মতে, মাতৃভাষা শেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজি শেখাও অপরিহার্য। তাঁর ছেলে ইউভান ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং ছোট বয়স থেকেই তিনটি ভাষায় পারদর্শী—বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি। পরিবারে এই শিক্ষার গুরুত্ব এবং শিশুদের ভাষাগত বিকাশকে কেন্দ্র করে সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন মতামত দেখা যায়।

রাজ চক্রবর্তী সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাম আমলে প্রাথমিক স্তর থেকে ইংরেজি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব তিনি নিজেও অনুভব করেছেন। তিনি জানালেন, ইংরেজি না থাকায় পড়াশোনায় একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে নিজের প্রচেষ্টায় তিনি ভাষাটির ওপর দখল বাড়ান। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, শুরু থেকেই সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের জন্য যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের সুযোগ অনেক সহজ হত।

রাজ আরও বলেন, তার সন্তানরা যেন আন্তর্জাতিকভাবে সব ভাষায় সমৃদ্ধ হোক। তাঁর মতে, শুধু ইংরেজি নয়, বিভিন্ন ভাষার সঙ্গে পরিচয় থাকাটা শিশুদের বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক। রাজের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, শিক্ষার ক্ষেত্রে সময়মতো সুযোগ এবং উৎসাহ শিশুদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ইংরেজির ভয়ে অনেক সময় পড়াশোনা থেকে দূরে থেকেছি, কিন্তু পরবর্তীতে নিজেকে আয়ত্ত করেছি।”

আরও পড়ুনঃ “অভিনেত্রীরা ছোট জামা পড়েই এক পা তুলে দাঁড়াচ্ছে সাউন্ড বক্সে…উরু থেকে আপ’ত্তিজনক অ’ঙ্গও দেখতে পাচ্ছেন দর্শক!” আধুনিকতা ও শালীনতার পার্থক্য শূন্য! বাংলা কোথাও দাঁড়াতে পারবে না, সংস্কৃতির অবক্ষয় নিয়ে বি’স্ফোরক পাপিয়া অধিকারী!

এই মন্তব্যের পর সামাজিক মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একপাশে রাজ চক্রবর্তীর অভিজ্ঞতাকে সমর্থন করছেন অনেকে, অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষানীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে মূল বিষয় হলো, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পরিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের ভাষাগত বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া। রাজ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “শুধু রাজনীতি নয়, প্রতিটি শিশুর জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন জরুরি।” এই ভাবনা নিয়ে তিনি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা নীতির উপর জোর দিতে চাইছেন।

You cannot copy content of this page