ঋণখেলাপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাপে পড়লেন বিধায়ক অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। অভিযোগকারী শাহিদ ইমাম ইতিমধ্যেই হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, নোটিস পাঠানো হলেও কোনও সাড়া দেননি সোহম। সেই কারণেই এ বার সালিশি আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শাহিদের আইনজীবী পিন্টু কাঁড়া জানিয়েছেন, আদালত একজন নিরপেক্ষ আরবিট্রেটর নিয়োগ করতে পারেন, যিনি দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বকেয়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মার্চের মাঝামাঝি মামলাটি উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন উঠছে, একই বিষয়ে নতুন করে সালিশির পথে হাঁটলেন কেন অভিযোগকারী। আইনজীবীর কথায়, এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা থাকে। আরবিট্রেটর উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধানের পথ খুঁজবেন। অভিযোগকারী শিবিরের আশা, সহযোগিতা করলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিষয়টির মীমাংসা সম্ভব। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে এই মামলা রাজনৈতিক তাৎপর্যও পাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ প্রসঙ্গে সোহমের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি নীরব থেকেছেন। যদিও এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, আইনি নোটিস পেয়েছেন এবং তাঁর আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। শাহিদ আইনি পথে হাঁটলে তিনিও আইনি পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, নির্বাচন সামনে আসায় পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হতে পারে। রাজনৈতিক আবহে এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে।
ঘটনার সূত্রপাত মানিকজোড় ছবিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রযোজনার জন্য শাহিদের কাছ থেকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন সোহম। শাহিদ নিজেও এক সময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। ২০২২ সালে এসএসসি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে সংশোধনাগারে থাকার কারণে তিনি টাকা ফেরত চাইতে পারেননি বলে দাবি করেন। ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তির পর যোগাযোগ করে নাকি দুই দফায় ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত পান। বাকি অর্থ আর ফেরত না পাওয়াতেই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে টিআরপির রুদ্ধশ্বাস লড়াই! সিংহাসনে ‘পরিণীতা’, ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ‘পরশুরাম’-এর! স্লট বদলেও জাদু ‘জোয়ার ভাঁটা’র! ‘বিদ্যা ব্যানার্জি’র জায়গা কোথায়? সেরা পাঁচে এবার চমকে দেওয়া ফলাফল!
১৬ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে মামলা এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শাহিদ। সোহমের বক্তব্য, বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেবেন, তবে তাঁর কয়েকটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলা ছবির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। হাতে অর্থ না এলে ঋণ শোধ করা কঠিন বলেই জানিয়েছেন বিধায়ক অভিনেতা। এখন দেখার, আদালতের মধ্যস্থতায় এই আর্থিক টানাপোড়েনের অবসান কবে ঘটে।






