“চতুর্থ বারেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়” দ্বিতীয় দফা মিটতেই মেগাস্টারের ‘মেগা’ ভবিষ্যৎবাণী! রাজ্যে চাকরি নেই, তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্জি রাখবে মুখ্যমন্ত্রীকে! আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, জানালেন তিনি?

রাজ্যে চলছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন, আর এই ভোটের প্রচারে তৃণমূল সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেতা দেব একাধিক বার্তা দিয়েছেন। গত বুধবার সাউথ সিটির একটি স্কুলে ভোট দেন তিনি। ভোট দেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দেব, জানান, “ভোটের মাধ্যমে আমরা একটা ভাল সরকার এবং একটা ভাল ভবিষ্যৎ যেন পাই।” এবারের নির্বাচন নিয়ে তার আশাবাদী মনোভাবও স্পষ্ট, তিনি মনে করেন, শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে এবং বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিতে হাজির হয়েছেন। তবে তার কথা, “এটাই তো হওয়া উচিত।

যত বেশি ভোট পড়বে, ততই তো ভাল। প্রতিটা ভোটের গুরুত্ব আছে, এটা মানুষকে বুঝতে হবে।” এবারের নির্বাচনে তাঁর দলের অবস্থান নিয়ে দেবের ভাবনা একদম স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমি দলের কর্মী হিসাবে চাইব, আমার দলই জিতুক। যে দলের হয়ে এক মাস প্রচার করেছি, চাইব তারাই জিতুক।” তবে, তিনি আরও বলেন, “যেমন অন্যান্য দলীয় কর্মীরা চান, তেমনই আমি চাই, চতুর্থ বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিন। এটা আমার ইচ্ছা। কিন্তু বাকিটা ৪ মে আমরা সবাই জানতে পারব।”

দেবের মতে, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের বিষয় তো পরে আসবে, এখন মানুষের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে দেবের বক্তব্যও পরিষ্কার ছিল। তিনি বারবার বলেছেন যে, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকা উচিত। দেব বলেন, “আমাদের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাই সব রকমের জাতি, ধর্মকে সম্মান করতে হবে। বিশেষত দেশ চালান যাঁরা, তাঁদের ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে হবে।” তাঁর মতে, নির্বাচনে ধর্মীয় বিষয়কে কোনোভাবেই ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: বাংলার ‘দুর্গা’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের তলায় ঠাঁই হবে ‘সিঙ্ঘম’ অজয় পাল শর্মার! বাংলায় নির্বাচন মিটতেই, আইপিএস অফিসারকে অপ’মান ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রীর?

তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তো আসবে-যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, ইডি এদের তো ধর্মনিরপেক্ষ থাকতে হয়।” ভবিষ্যতে রাজ্যে বা দেশের কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে চান, সে সম্পর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেব। তিনি জানান, প্রথমে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তাকে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, “রাজ্যে তথা গোটা দেশেই জনসংখ্যা প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাকরির অবস্থাও দেখতেই পাচ্ছেন সবাই। চিনের জনসংখ্যাও ছাপিয়ে গিয়েছে আমাদের দেশ।

অথচ আয়তনে চিন কত বড়!” এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দাবি করেছেন। এই প্রসঙ্গে দেব আরও বলেন, “এটা বলা ঠিক হবে কি না জানি না, তবে সত্যি বলতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০-২৫ বছর তো লাগবেই। দিদি যদি সরকার গড়েন তা হলে দিদিকে বলব, অথবা অন্য কেউ এলে তাকে। আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি রাখব, যাতে প্রতিটি রাজ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করা হয়।” দেবের মতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এটি কোনো সাময়িক পরিকল্পনা নয়, একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা।

 

You cannot copy content of this page