অকালে বাবাকে হারিয়ে, সহজ নিজের জীবনকে কতটা ‘সহজ’ করে নিতে পারল? রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর এক মাস পর, ছেলের মানসিক অবস্থা ঠিক কেমন? কী জানালেন, বিধবা স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার?

গত ২৯ মার্চ, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় যখন “ভোলে বাবা পার কারেগা” ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালসারিতে অকালেই মৃত্যুবরণ করেন, তখন টলিউড জগতই যেন স্তম্ভিত হয়ে যায়। রাহুলের অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া ফেলে। এক মাস পর, তার বিধবা স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার জানিয়েছেন, এই এক মাসে রাহুলের একমাত্র সন্তান সহজ কিভাবে মানসিকভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমরা সবাই আলাদা আলাদা ভাবে এই শোক সহ্য করার চেষ্টা করছি।”

যদিও, সহজের সাথে এবিষয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়নি বলে জানান তিনি। রাহুলের মৃত্যুর পর, গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তার জন্য নতুন নিয়মাবলি প্রণীত হয়। শিল্পী, কলাকুশলীসহ সবাই শোকের পাশাপাশি একে অপরের নিরাপত্তার জন্য সচেতন হয়। কিন্তু সেই শোকের মাঝেও সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন ছিল সহজের মানসিক অবস্থা। যেই ছোট্ট সহজ, রাহুলের মৃত্যুর সময় সবাইকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল, তার জন্য দিনগুলো যে কতটা কষ্টের, তা সহজের মা, প্রিয়াঙ্কা ভালো জানেন। “আমরা এখন সবাই আমাদের মতো করে শোক সহ্য করার চেষ্টা করছি,” বললেন প্রিয়াঙ্কা।

আরও পড়ুন: “প্রতিবারই আমাদের ‘মা দুর্গা’ অসুর বাহিনীর সঙ্গে একাই লড়ে…ভোটটা তো মহালয়ার দিনই করতে পারে” ভোটদানের পর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাংলার মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্মোধন করে আত্মবিশ্বাসী বার্তা রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের!

প্রিয়াঙ্কা আরও জানান, সহজের সাথে বিশেষভাবে কোনো কথোপকথন হয়নি এই বিষয়ে, কারণ “সবাইকে একটা স্পেস দরকার হয়।” সহজ যদি কখনো তার মনের কথা বলতে চায়, তবে সে নিজেই একদিন তার মাকে জানাবে, এমনটাই বিশ্বাস প্রিয়াঙ্কার। তবে, এক মাসের মধ্যে সহজ কিছুটা হলেও নিজের মধ্যে পরিবর্তন দেখাচ্ছে। সেই ছোট্ট সহজ এখন তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু তার মনের গভীরে এখনও সেই শোক চাপা পড়ে রয়েছে, যা সময়ের সাথে ঠিক কতটা নিরাময় হবে, তা সময়ই বলবে।

রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে। সেই সিনেমার মতোই তাদের ভালোবাসার গল্প ছিল স্বপ্নের মতো। বিয়ের পর তাদের সংসার ছিল সুখী, এবং একমাত্র সন্তান সহজ ছিল তাদের জীবনের মূল আলো। কিন্তু কিছু সময় পর, রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়, এবং ডিভোর্সের দিকে যেতে হতে ছিল। তবে, সন্তান সহজের কথা ভেবে তারা আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের সুখী সংসার আবার ফিরে আসে।

কিন্তু তখনই ঘটে রাহুলের অকাল মৃত্যু, যা সবকিছু শেষ করে দেয়। রাহুলের চলে যাওয়ার পর, প্রিয়াঙ্কা ও সহজের জীবনে যা কিছু বাকি ছিল, তা একেবারে শূন্য হয়ে গেছে। কিন্তু তবুও প্রিয়াঙ্কা নিজের সব শক্তি নিয়ে ছেলেকে সান্ত্বনা দিয়ে চলেছেন। তাঁর মনের কষ্টের কথা তিনি প্রকাশ করতে চাননি, তবে তিনি জানালেন যে, “সবসময় সবার পাশে থাকতে হবে, শক্তি যোগাতে হবে।” এক মাস পর, সহজ এখনও তার বাবাকে হারানোর শোকে বিধ্বস্ত, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জানেন, সময়ের সাথে সাথে সহজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

You cannot copy content of this page