“বৌদি মানে মায়ের মতো যত্ন, বন্ধুর মতো বিশ্বাস” তাঁর কাছে যে কথা বলা যায়, অন্য কাউকে বলা যায় না! তরুণরা কেন ‘বৌদি’দের দিকে টান অনুভব করে? এই আকর্ষণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাবে, সম্পর্কের মানবিক দিক ব্যাখ্যা করলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

তাঁকে কাছ থেকে দেখলে প্রথমেই যে জিনিসটা চোখে পড়ে, তা হল তাঁর ব্যক্তিত্বের স্পষ্টতা। তিনি কী পছন্দ করেন আর কী করেন না, সেটা লুকিয়ে রাখার মানুষ নন। পোশাকের রঙ নিয়েও বেশ খুঁতখুঁতে। তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পাতায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়, তিনি নিজের উপস্থিতিকে রঙিন ভাবেই প্রকাশ করতে ভালোবাসেন। তবে, এটি কি কেবল বাহ্যিক নয়? একদমই না! বরং এই পছন্দই যেন অভিনেত্রী ‘স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়’-এর (Swastika Mukherjee) আত্মবিশ্বাসী মানসিকতাকেও বহন করে।

কাজের ক্ষেত্রেও তিনি একইভাবে নিজের সীমা ভাঙতে পছন্দ করেন। প্রতিবার ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেও তিনি স্থির হয়ে থাকতে রাজি নন। তাঁর কাছে অভিনয় মানে শুধু পরিচিত পথে হাঁটা নয়, বরং নতুন অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যাওয়া। পুরনো সাফল্যের উপর ভর করে বসে থাকার চেয়ে নতুন চরিত্রে নিজেকে খুঁজে নেওয়াই তাঁকে বেশি টানে। সেই কারণেই সাম্প্রতিক ছবি ‘প্রমোটার বৌদি’তে কাজ করার সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এক ধরনের চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেলেই সেটাকেই টেনে নিয়ে ছিল ব্যর্থতার প্রমাণ।

বরং দর্শক যেন প্রতিবার নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারেন, সেই চেষ্টা থাকা দরকার একজন শিল্পীর। এই ছবির ‘বৌদি’ চরিত্রটি নিয়ে তাঁর ভাবনা যেভাবে তুলে ধরেছেন তিনি, নিঃসন্দেহে তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বর্তমান সমাজে এই শব্দটি অনেক সময় কটু দৃষ্টিতে দেখা হয়, যেন এর মধ্যে অযুক্তিক আকর্ষণ বা ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কাছে বৌদি মানে বাড়ির খুব কাছের একজন মানুষ।

যিনি একদিকে মায়ের মতো যত্ন নেন, অন্যদিকে বন্ধুর মতো শোনেন। এই সম্পর্কের ভেতরে এক ধরনের সহজতা থাকে, যা অন্য অনেক সম্পর্কেই অনুপস্থিত। তাই শব্দটিকে কেবল বাহ্যিক আকর্ষণের চোখে দেখা তিনি সমর্থন করেন না। এদিকে কমবয়সী ছেলেরা কেন বৌদিদের প্রতি টান অনুভব করে? এই প্রশ্নটিকেও তিনি খুব বাস্তবভাবে দেখেন। তাঁর মতে, এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানসিক নির্ভরতা। বৌদি এমন একজন, যাঁর কাছে ব্যক্তিগত কথা বলা যায়।

আরও পড়ুনঃ “গুরুর মৃ’ত্যু যতটা কষ্ট দিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি য’ন্ত্রণা দিয়েছিল গুরুর…” ‘জান গুরু’ উৎপল দত্তকে নিয়ে কোন মন্তব্যে ভেঙে পড়েছিলেন চন্দন সেন? অপমানের ক্ষ’ত, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও দু’বার থিয়েটার দল থেকে বিতাড়ন! অন্তরালে লুকিয়ে থাকা জীবনের কোন অধ্যায় সামনে আনলেন অভিনেতা?

সমস্যার কথা বলা যায়, এমনকি ছোটখাটো সাহায্যও চাওয়া যায়। এই সম্পর্কের মধ্যে স্নেহ, আস্থার জায়গা এবং খোলামেলা কথা বলার সুযোগের মিশ্রণ থেকেই আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। বিষয়টা তাই কেবল বাহ্যিক নয়, অনেকটাই আবেগ ও বিশ্বাসের উপর দাঁড়ানো। তাঁর এই ভাবনাচিন্তা থেকেই স্পষ্ট যে তিনি কোনও চরিত্র বা শব্দকে একমাত্রিকভাবে দেখেন না। যেমন নিজের জীবনের ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীন, তেমনি চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও একই পথ খোঁজেন। আবার তিনি নিজের মতো ভাবেন এবং সেই ভাবনাকেই সামনে আনতে দ্বিধা করেন না।

You cannot copy content of this page