বিনোদন জগতের শিল্পীদের জীবন বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পর্দার আড়ালের গল্প, সম্পর্কের ওঠানামা কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সবকিছু নিয়েই দর্শকের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। বিশেষ করে যখন কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী নিজের জীবনের অপ্রকাশিত অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন, তখন তা মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কারণ, তাঁদের জীবনযাপন অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা, আবার কখনও বিতর্কের বিষয়।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী কন্যাকুমারী মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই স্পষ্ট উচ্চারণ এবং সাবলীল কথাবলার দক্ষতার জন্য তিনি নজর কেড়েছিলেন। পরবর্তীকালে অভিনয়ে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ গোগোল’, ‘নীর খোঁজে পাখি’, ‘বাইকেলের আলো’ এবং ‘ঠিক সন্ধে নামার আগে’-এর মতো একাধিক কাজের মাধ্যমে তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তবে এবার তাঁর অভিনয় নয়, ব্যক্তিগত জীবনের কথাই উঠে এল আলোচনায়।
অভিনেত্রীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল তাঁর প্রথম বিবাহ। খুব অল্প বয়সেই তিনি বিয়ে করেছিলেন টলিউডের অভিনেতা-পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায়কে। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং পরবর্তীকালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তথাগত নতুন করে সংসার পাতেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তের সঙ্গে। অন্যদিকে কন্যাকুমারীও নিজের জীবনে এগিয়ে যান, বর্তমানে তিনি অর্কদীপ্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহিত এবং একজন দায়িত্বশীল মা হিসেবেও নিজের ভূমিকা সামলাচ্ছেন।
সম্প্রতি এই সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বিবাহ বিচ্ছেদের পর সমাজে সাধারণত মেয়েদেরই বেশি কথা শুনতে হয় তিনি কি সেই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন? উত্তরে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তিনি বলেন, তাঁর বাবা-মা কখনও তাঁকে দায়ী করেননি। এমনকি যে পরিবারে তাঁর বিয়ে হয়েছে, সেখান থেকেও কোনওরকম কটাক্ষ বা অপমান তাঁকে সহ্য করতে হয়নি। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই আলাদা এবং ইতিবাচক।
আরও পড়ুনঃ “ভাই অমিত বলে একজন রবীন্দ্রনাথ, তারাশঙ্কর নিয়ে…পুরো লেবড়ে গেছে!” বোলপুরের জনসভায় রবীন্দ্রনাথকে ‘রবিশঙ্কর’, অমিত শাহের উচ্চারণ বিভ্রাটে ঋত্বিক চক্রবর্তীর খোঁচা! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে অভিনেতার বিদ্রুপে নেটপাড়ায় হাসির রোল!
অভিনেত্রী আরও জানান, যদি কোনওদিন নিজের আত্মজীবনী লেখার সুযোগ আসে, তাহলে অতীত নিয়ে হয়তো মাত্র এক লাইনই লিখবেন। কারণ, অতীত নিয়ে তাঁর বলার মতো বিশেষ কিছু নেই। তিনি বর্তমান জীবন এবং নিজের কাজ নিয়েই এগিয়ে যেতে চান। প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতাও তাঁর নেই, কারণ তিনি কখনও সেই পথে হাঁটেননি। সব মিলিয়ে, নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আজ তিনি স্থির, আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক মানসিকতায় এগিয়ে চলেছেন অভিনেত্রী।






