“নিজের নামের সঙ্গে পদবি রাখিনি, মেয়ের নামের পাশেও চাই না!” সিঙ্গল পেরেন্টদের কষ্টটা কেউ বোঝে না? দায়িত্ব নেন না প্রাক্তন স্বামী, দাবি অভিনেত্রী স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়ের! সমাধানে ফিরহাদ হাকিমের দ্বারস্থ হলেন তিনি!

তাঁর পরিচয় একজন অভিনেত্রী এবং দক্ষিণ কলকাতার নাম করা ক্যাফের কর্ণধার, তবে প্রাথমিক পরিচয়ে তিনি একজন একাকী মা। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। কথা হচ্ছে স্বরলিপি চট্টোপাধ্যায়ের (Swaralipi Chatterjee)। ব্যক্তিগত জীবন হোক কিংবা দাম্পত্যে অশান্তি, এমনকি কিছুদিন আগে হিন্দু হয়ে গো-মাং’স খাওয়া নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। মোটের উপর, কমবেশি সমাজ মাধ্যমে তাঁকে ঘিরে চর্চা লেগেই থাকে। কয়েকদিন আগেই তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, মেয়ের পদবি পরিবর্তন করতে না পারায়। তখন তিনি বলেছিলেন, বাবা যখন কোনও দায়িত্বই নেবে না, তখন তার পদবী ব্যবহারের মানে হয় না।

যদিও আইনের মতে, সন্তানের বাবা থাকা সত্ত্বেও যদি পদবী পরিবর্তন করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে মায়ের বাপের বাড়ির পদবী ব্যবহার করতে হয়। যদিও, স্বরলিপি চান না যে মেয়ে কোনও বাড়ির পদবী ব্যবহার করুর। আর সেটা করতে হলে একা মায়ের সম্মতিতে হবে না, সন্তানের বাবা কেউ সম্মতি দিতে হবে। এদিকে, অনেকদিন ধরেই নিজের নামের সঙ্গে কোনও পদবি ব্যবহার করেন না, এমনটাই সব জায়গায় জানিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তেও তিনি একই অবস্থানে অনড়। তাঁর মেয়ে সহচরীর ক্ষেত্রেও তিনি চান না বাবার বা মায়ের পদবি যুক্ত হোক।

কিন্তু এই ইচ্ছেটুকু বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে তাঁকে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনিক জটিলতায়। কলকাতা কর্পোরেশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও এখনও পর্যন্ত মেয়ের নথিতে পদবি বাদ দেওয়ার অনুমতি পাননি তিনি। প্রসঙ্গত, সহচরীর জন্মের সময় স্বরলিপি বিবাহিত ছিলেন অভিনেতা সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং সেই থেকেই মেয়েকে বড় করছেন স্বরলিপি একাই। ছ’মাস বয়সে জন্মসনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রথমবার জানতে পারেন, বিবাহবিচ্ছেদ না হলে নথিতে পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ডিভোর্সের পর আবার আবেদন করেন। বিভিন্ন মহলের সহায়তায় তিনি ফিরহাদ হাকিম সহ, পুরপ্রশাসনের উচ্চপদস্থদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে তাঁর নিজের পদবি মেয়ের নামে যুক্ত করার প্রস্তাবও আসে, কিন্তু তাতেও তিনি সম্মত হননি। তাঁর অবস্থান স্পষ্ট, মেয়ের নামের সঙ্গে কোনও পদবি থাকবে না! এই প্রক্রিয়ার মধ্যে অপমানজনক অভিজ্ঞতার কথাও সামনে এসেছে। কর্পোরেশনে গিয়ে কিছু কর্মীর মন্তব্যে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান বলে জানান। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কটূক্তি, ভবিষ্যতে স্বামীর ঝামেলার আশঙ্কার কথাও শুনতে হয়েছে তাঁকে।

এমনকি জানানো হয়, এই ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ নেই। অন্যদিকে, তিনি জানতে পারেন, অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান জন্মালে নাকি এই পরিবর্তন সহজতর হতো! অর্থাৎ, বিবাহিত থাকার সময় জন্ম হওয়াই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বরলিপির বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের নয়, বরং একক অভিভাবক হিসেবে তাঁর সংগ্রামের অংশ। নিজের উপার্জনে মেয়েকে বড় করলেও, সরকারি নথিতে এখনও বাবার পদবিই বহাল রয়েছে? তাঁর মতে, সিঙ্গল পেরেন্টদের জন্য এই জায়গাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

আরও পড়ুনঃ “এমন হবে ভাবিনি…ফেরার নিশ্চয়তা নেই” স্বামী সহ প্যারিসে আটকে সন্দীপ্তা! ইরান-ইসরাইলের যু’দ্ধ পরিস্থিতিতে, ফেরার পথ কার্যত বন্ধ! মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় উদ্বেগ বাড়ছে! কেমন আছেন অভিনেত্রী?

পরিচয়ের প্রশ্নে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত, সেটাই তিনি মনে করেন। বর্তমানে সমাজে অনেকেই প্রচলিত পদবি ব্যবহার না করে ভিন্ন পরিচয় বেছে নিচ্ছেন। কেউ বাবার পদবি বাদ দেন, কেউ শুধুমাত্র নিজের নামেই পরিচিত হতে চান। সেই প্রেক্ষিতে স্বরলিপির আবেদন একেবারে অস্বাভাবিক নয়। এখন দেখার, কলকাতা কর্পোরেশন শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুরোধ মঞ্জুর করে কি না। প্রশাসনিক নিয়ম আর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অধিকারের টানাপোড়েনের এই লড়াই কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই সময় বলবে।

You cannot copy content of this page