“ইন্ডাস্ট্রি কখনো একজন হিরো দিয়ে চলে না” দাবি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের! একসময় একাধিক নায়কের কাঁধেই নির্ভর করত বক্স অফিসের ভাগ্য, সেই ফর্মুলা ভেঙে যাওয়াতেই কি আজ সাফল্যের চাবিকাঠি হারাচ্ছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি? কী জানালেন অভিনেতা?

প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রি চলতে গেলে শুধু একজনের কাঁধে ভর করে চলে না, বরং অনেকের সম্মিলিত প্রতিভা আর পরিশ্রমের ফলেই সেটা এগিয়ে যায়। অভিনয় জগতে তো এটা আরও স্পষ্ট—পর্দার সামনে যারা আলোকিত হয়, তারাও একা কিছু করতে পারে না। পর্দার পেছনে সেই সব ক্রিয়েটিভ মাইন্ড, টেকনিশিয়ান, ডিরেক্টর, প্রডিউসার আর ফ্যানদের ভালোবাসা ছাড়া কোনো ছবিই হিট হয় না। এমনকি পর্দার সামনেও একজন হিরো দিয়েও সব চলে না, একসঙ্গে অনেক তারকার ছবি না এলে ইন্ডাস্ট্রি সচল থাকে না। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খুললেন টলিউডের বুম্বাদা।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক স্বর্ণযুগী নক্ষত্র প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিনি গত তিন দশক ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে টলিউডকে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর অবদান এত বেশি যে সম্প্রতি তিনি দেশের সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মশ্রী পেয়েছেন। একাধিক হিট ছবিতে তাঁর চরিত্রগুলো দর্শকের মনে একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে—বীরত্ব, রোমান্স, নাচ সবকিছুতে তাঁর ছোঁয়া আজও অবিস্মরণীয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ খোলাখুলি বলেছেন, টলিউডে শুধু একজন হিরো নিয়ে চলা যায় না। তাঁর সময়ে যখন তাঁর ছবি রিলিজ হতো, তখন বক্স অফিসে ঝড় উঠত। কিন্তু ঠিক তারপরেই রঞ্জিত মল্লিক, তাপস পাল বা চিরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়ের ছবি এসে দর্শকদের আবার খুশি করত। একের পর এক হিরোদের ছবিতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি তখন সত্যিই সোনার যুগ দেখছিল। প্রসেনজিৎ বলছেন, এই বৈচিত্র্যই ছিল সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুনঃ “মোটা টাকার টিকিট কেটে যদি…” ইডেনে দর্শকদের আচরণে বিরক্ত রণজয়! ‘নতুন বউ’ শ্যামৌপ্তির প্রথম লাইভ ম্যাচেই অস্ব’স্তির অভিজ্ঞতা! নবদম্পতির বিশেষ দিনে কী এমন ঘটল?

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, একা কোনো হিরো ইন্ডাস্ট্রিকে চালাতে পারে না। সেই সময়ের মতো আজও সবাইকে মিলে এগোতে হবে, নইলে বক্স অফিস চালানো সম্ভব নয়। প্রসেনজিতের কথায় সেই যুগের স্মৃতি ফিরে আসে—যখন এক হিরোর হিটের পর আরেকজনের ছবি এসে দর্শকের মন জয় করত। এখনও সেই ফর্মুলা কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাসী। টলিউডের এই পুরনো দিনগুলোর কথা বলতে বলতে তিনি বর্তমান প্রজন্মকেও শিক্ষা দিলেন, যে একক প্রভাবে কিছু হয় না।

প্রসেনজিতের এই বক্তব্য টলিউডে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, তিনি পরোক্ষভাবে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির কথা বলতে চেয়েছেন—যেখানে কয়েকজনের আধিপত্য চলছে বলে অনেক নতুন তারকার সুযোগ কমে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন বাংলা ইন্ডাস্ট্রি সেই পুরনো সাফল্যের চাবিকাঠি হারিয়ে ফেলছে।

You cannot copy content of this page