“ভীষণ মিস করছি, দোলের দিন মায়ের…” আবেগে ভাসলেন রাহুল মজুমদার! মেয়ের সঙ্গে প্রথম রঙ খেলা, আনন্দের মাঝেও কেন মন খারাপ অভিনেতার? রঙের উৎসবে পারিবারিক সমীকরণের কোন দিক ফাঁস করলেন অভিনেতা?

বসন্ত মানেই রঙের উল্লাস। দোলের সকালে চারদিক যেন নতুন করে সেজে ওঠে লাল, সবুজ, হলুদের ছোঁয়ায়। পাড়ায় পাড়ায় বাজে গান, এবং একে অপরকে রঙ মাখিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই ধরা পড়ে উৎসবের আসল মানে। রাজ্য জুড়ে যখন রঙের এই উন্মাদনা, তখন টলিপাড়ার তারকারাও পিছিয়ে থাকেন না। ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা বা পেশাগত চাপ— সব কিছুর মাঝেও দোল যেন একটু থেমে গিয়ে আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অজুহাত।

এই আবহেই নজরে প্রীতি বিশ্বাস ও রাহুল মজুমদার। ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ দু’জনেই। ‘হরগৌরি পাইস হোটেল’ ধারাবাহিকে শঙ্কর চরিত্রে রাহুল যেমন দর্শকের মন কেড়েছেন, তেমনই প্রীতিও নিজের অভিনয় দক্ষতায় তৈরি করেছেন আলাদা পরিচিতি। কাজের সূত্রে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, প্রেম এবং অবশেষে সংসার। মাঝেমধ্যে সম্পর্ক ভাঙনের গুঞ্জন উঠলেও তা যে ভিত্তিহীন, সন্তানের আগমনের সুখবরেই স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন তাঁরা। আপাতত কাজের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পরিবার, নতুন সদস্যকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে তাঁদের প্রতিদিনের জীবন।

দোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাহুল প্রথমেই জানান, উৎসবের আগের দিন প্রীতি তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। কিন্তু শুটিংয়ের চাপে তিনি নিজে যেতে পারেননি। সেই আক্ষেপ লুকোননি অভিনেতা। বিশেষ করে মায়ের হাতের মালপোয়া না খেতে পারার কষ্টটা যেন একটু বেশি করেই অনুভব করছেন তিনি। হাসতে হাসতেই বলেন, “দোলের দিন না হোক, পরের দিন অবশ্যই গিয়ে খেয়ে আসব।” কাজের ব্যস্ততা থাকলেও পরিবারের প্রতি টান যে অটুট, কথাতেই স্পষ্ট।

রাহুল আরও জানান, তাঁদের দু’জনেরই প্রিয় রং লাল। দোল মানেই লালের ছোঁয়া থাকবেই। তবে এ বছর উৎসব একটু আলাদা। বাড়িতে তাদের ছোট্ট মেয়ে রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই সবাই অনেক বেশি সতর্ক। প্রীতির মা নাকি স্পষ্ট করে বলেছেন, রং নিয়ে যেন বেশি বাড়াবাড়ি না হয়— বিশেষ করে ছোট্ট মেয়ের কথা ভেবে। পরিবারের একাধিক সদস্যও সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেই কি উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়? রাহুলের মতে, কারও অ্যালার্জি বা শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত, কিন্তু শুধুমাত্র অযথা ভয় পেয়ে উৎসব এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষে নন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “প্রতিটি মুহূর্ত ভয়’ঙ্কর, দয়া করে ওকে দেশে ফেরান…আমি শুধু চাই ছেলেটা নিরাপদে বাড়ি আসুক” মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায়, আটকে পরা সন্তানের দুশ্চিন্তায় অভিজিৎ! যু’দ্ধ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন গায়ক, সরকারের কাছে জানালেন সাহায্যের আবেদন!

অভিনেতার কথায়, পরিবারে এমন কেউ থাকলে যিনি রং খেলতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের তিনি নিজেই সামলে নেন। বোঝান, সীমিত পরিসরে, সাবধানে আনন্দ করলেই কোনও সমস্যা নেই। প্রীতিও সহমত। তাঁর মতে, দায়িত্ব আর আনন্দ— দুটোই একসঙ্গে সম্ভব, যদি সচেতন থাকা যায়। নতুন মেয়েকে ঘিরে যতই সাবধানতা থাকুক, ঘরে যে বসন্ত এসেছে, তা লুকোনো যায় না। তাই এবারের দোল তাঁদের কাছে শুধুই রঙের উৎসব নয়, বরং নতুন জীবনের আনন্দকে উদযাপন করার আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত।

You cannot copy content of this page