“আমি আঁচ করতে পেরেছিলাম…” পালাবদলের আভাস পেয়েই কি আগেভাগেই ছেড়েছিলেন তৃণমূল? নির্বাচনের ফলাফল দেখে মুখ খুললেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী! “নেত্রী চাইলে ক্ষতি কম হতো” প্রকাশ্যে মমতাকে তুলোধোনা করে কী বললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?

ভোটের আবহে যখন তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি সবসময়ই আলোচনায় থাকে, তখন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে নজর কেড়েছিলেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। অনেক তারকাদের তৃণমূল কংগ্রেস-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও প্রচারে দেখা গিয়েছে। কিন্তু চিরঞ্জিত শুধু দল ছাড়েননি, ভোটের আগেই রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, অভিনেতার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো আগেভাগেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। সেই কারণেই কি এমন সিদ্ধান্ত?

এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। অভিনেতার নিজের বক্তব্যেই মিলছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চিরঞ্জিত স্পষ্টভাবে জানান, “আমি এবার দাঁড়াবো না বলেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। একটাই মানুষ রাজনীতি ছেড়ে দিল এই বছর, এই ভোটে, এই সময়ে। সেটাই প্রমাণ হচ্ছে যে আমি কি বুঝেছিলাম।” তাঁর কথায় স্পষ্ট যে সিদ্ধান্তটা হঠাৎ নয়, বরং ভেবেচিন্তেই নেওয়া। তিনি আরও বলেন, “ঝড়টা হবে হয়তো ভাবিনি কিন্তু আঁচ করেছিলাম।” অর্থাৎ বড়সড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তাঁর মনে ছিলই।

দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি পরিস্থিতি বিচার করেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। চিরঞ্জিত আরও বলেন, “যা যা হয়েছে এত বছর ধরে, এর মধ্যে অনেক ভুল আছে যা আমার ভালো লাগেনি।” তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে একাধিক ঘটনা তাঁর মনে প্রশ্ন তুলেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “সময়টা তৈরি হয়ে গিয়েছিল এটা আমি বুঝেছিলাম। তাই আমার মনে হয়েছে আমি রাজনীতিটাই ছেড়ে দেব।” অর্থাৎ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে তাঁর পক্ষে আর রাজনীতিতে থাকা সম্ভব নয়।

এই বক্তব্যে স্পষ্ট তাঁর মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। এছাড়াও তিনি আরও খোলাখুলি বলেন, “যেভাবে চুরি দেখা গিয়েছে, অভয়া কাণ্ডের কথা জানা গিয়েছে, এই যে ২৬ হাজার চাকরি গিয়েছে পরপর ঘটনা।” এই ঘটনাগুলির প্রভাব যে তাঁর সিদ্ধান্তে পড়েছে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “নেত্রী যদি চাইতেন তাহলে হয়তো কিছুটা কভার করতে পারতেন। তাহলে এই ক্ষতিটা হতো না।” তবে তিনি এটাও মানেন যে সরকারের কিছু কাজ ইতিবাচক ছিল। তাঁর কথায়, “এমন তো নয় মুখ্যমন্ত্রী কিছু করেননি।

আরও পড়ুনঃ হাইভোল্টেজ ভোটে ব্যপক পরাজয়, মমতার তোষন করেও হালে পানি পেলেন না রাজ! হারলেও কমেনি আত্মবিশ্বাস, স্বামীকে ‘সুপারহিরো’ তকমা স্ত্রী শুভশ্রীর! পাশে দাঁড়িয়েই আর কী বললেন ‘লেডি সুপারস্টার’?

উনি কাজও অনেক করেছেন। কিন্তু সেই কাজের তুলনায় এই ভুলগুলো অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল।” উল্লেখ্য, ২০১১ সালে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী প্রথমবার তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। সেই সময় তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। এরপর টানা তিনবার বারাসাত কেন্দ্র থেকে জিতে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করেন। কিন্তু এত সফল রাজনৈতিক কেরিয়ার থাকা সত্ত্বেও এবারের ভোটের আগেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এখন তিনি অভিনয়েই মন দিতে চান। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ভোটের আগে তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নেন, যা এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

You cannot copy content of this page